বিজ্ঞান, দর্শন ও ওহি: কায়েনাত-পাঠের ত্রিমাত্রিক পদ্ধতি
ব জ ঞ ন দর শন ও – আমরা কিভাবে জগৎকে বুঝতে পারি? কি এটি নির্বাক বস্তুগুলোর সমষ্টি নয়, বরং একটি সৃষ্টিগত অর্থব্যবস্থা হিসেবে ধরা যায়? আল্লাহ বিশ্বাস করেন যে প্রতিটি সত্তা একই সঙ্গে মাখলুক (সৃষ্ট), আয়াত (নিদর্শন) এবং দালালাহ (ইঙ্গিত-ধারক) এর অংশ।
পদার্থ এবং ইরাদা নির্দেশনা
পদার্থ হলো মাদ্দাহ বা সৃষ্ট রূপ ধারণের সম্ভাবনাময় ভিত্তি। শক্তি কেবল স্বাধীন সত্তা নয়; এটি কুদরাহ বা পরম ইচ্ছার বাস্তবায়নের মাধ্যম। প্রকৃতির নিয়ম স্থির কাঠামো নয়, বরং সুন্নাতুল্লাহ তথা আল্লাহর স্থায়ী ও পুনরাবৃত্ত বিধানিক বিন্যাস।
কোরআনের ভাষায় জগৎজুড়ে ছড়িয়ে আছে নিদর্শনসমূহ। ছড়িয়ে আছে দিগন্তে, মানুষের অন্তর্জগতে। অর্থাৎ বাস্তবতা নিজেই একটি পাঠ্য (টেক্সট)।
ওহি ও বুদ্ধিবৃত্তি ইসলামি জ্ঞানতত্ত্বে এক গভীর ভারসাম্য তৈরি করে। আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান বাস্তবতার পর্যবেক্ষণনির্ভরতা ও তরঙ্গ-সম্ভাবনার ধারণা ব্যবহার করে, যেখানে কোনো কণা নির্দিষ্ট অবস্থায় আসে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। ইসলামি দৃষ্টিতে এই ধারণার একটি দার্শনিক বিকল্প রয়েছে। এটি হলো ‘তাজাল্লিয়াতুল হক’ বা সত্যের প্রকাশ ধারণা।
আধুনিক তথ্যতত্ত্ব ও ইসলামি দর্শন
আধুনিক তথ্যতত্ত্ব বাস্তবতাকে ডেটা ও কোডের কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু ইসলামি দৃষ্টিতে তথ্য নিরপেক্ষ সিগন্যাল নয়, বরং এক অর্থ-নির্দেশিত চিহ্নব্যবস্থা। বিটগুলো নিছক সংখ্যা নয়; তারা হচ্ছে হরফুল আয়াত বা অর্থবাহী একক চিহ্ন, যা বৃহত্তর দালালাহ-ব্যবস্থার অংশ।
প্রকৃতি নির্বাক মেশিন নয়, বরং একটি ইশারাভাষী বাস্তবতা। প্রতিটি সম্পর্ক একটি পাঠযোগ্য ইঙ্গিত। মহাবিশ্ব কোনো বন্ধ সিস্টেম নয়; বরং এক অবিরাম প্রকাশপ্রক্রিয়া, যেখানে অস্তিত্ব প্রতিনিয়ত অর্থের দিকে উন্মোচিত হচ্ছে।
মহাবিশ্বের গতিশীলতাকে আধুনিক কসমোলজি সম্প্রসারণ, বিবর্তন ও সময়ের প্রবাহ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু ইসলামি দর্শনে এটি সুনানুল্লাহর চলমান বাস্তবায়ন। অর্থাৎ সৃষ্টির পরিবর্তন অন্ধ যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি বিধানিক প্রবাহ। অস্তিত্ব সদা-নবায়নশীল ভাবে ক্রমাগত নতুন রূপে প্রকাশিত হয়।
কোরআনের ভাষায় আল্লাহ প্রতিদিন নতুন শানে বিদ্যমান। এটি নির্দেশ করে যে মহাবিশ্বে অস্তিত্বের প্রকাশ কখনো স্থির নয়, বরং সৃষ্টিসমগ্রতার প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল।
মুসা আল হাফিজ: লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। ইসল
