বাঁধের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে হাওরে
ব ধ র ব যবস য় ড – হাওরে কৃষকদের ভরসা ছিল বোরো ধানে। কিন্তু উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে এখন এ ধানের বড় হুমকি দেখা দিয়েছে। ঢল নামলে হাওর ভেসে যায় এবং ফসল রক্ষা করতে হাওর বাঁধ ভাঙে। গত বছর তালিকা দেখায় ঢল কম হয়েছে এবং বাঁধ ভাঙেনি। তবু কৃষকদের বুক ভেঙেছে এবং ধান ডুবে গেছে।
এখন হাওরে নির্বিঘ্নে পানি নামার পথে বাধা তৈরি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন এ কাজে যুক্ত। পাউবো কাজে এবার ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ হয়েছে। কিন্তু ফসল রক্ষায় বাঁধের কাজ কেবল পরিমাণ বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অপরিকল্পিত বাঁধ ধানের ঝুঁকি বাড়িয়েছে
উজানের ঢলের পানি ভাটিতে নামার পথে যে বাধা আছে সেগুলো দূর করতে হবে। সুনামগঞ্জে বৃষ্টি পড়ে ফসল রক্ষা করা জন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে শুধু বাঁধ দিয়ে ফসল রক্ষা হবে না। প্রতিবছর অনেক অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এসব বাঁধ হাওরের প্রকৃতি ও পরিবেশকে ক্ষতি করছে।
‘এখন যেভাইদি চোখ যায়, খালি বাঁধ আর বাঁধ। বাঁধের লাগি ত পানি আটকি থাকে।’ – কৃষক আবদুল মালিক
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হাওরপাড়ের হালুয়ারগাঁও গ্রামে বাপ-দাদার হাতে কৃষিকাজ শুরু করেছিলেন আবদুল মালিক। এখন পরিবর্তন হয়নি তাঁর জমি বাঁধ নির্মাণে। পূর্বে নদীগুলো গভীর ছিল এবং ঢলের পানি সহজে ভাটিতে চলে যেত। হাওরের গভীর অংশে ধানের আবাদ হতো না। এখন হাওর ভরাট হওয়ার কারণে পানি ধারণের ক্ষমতা কমে গেছে।
বাঁধের সঙ্গে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং দুই পক্ষে বিবাদ শুরু হয়েছে। নোয়াখাড়া এলাকায় একটি জলকপাট রয়েছে কিন্তু এটি কাজে লাগছে না। জেলার জোয়ালভাঙ্গা হাওরে দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে কাইনকোনা বাঁধের কাজ হয়েছে। অতিবৃষ্টি হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি করছে।
পাউবো বাঁধের সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখছে বলে জানান মো. মামুন হাওলাদার। কিন্তু অনেক জায়গায় খাল-নদী ভরাট হয়ে গেছে। কাইনকোনা বাঁধ কেটে দেওয়া হয় চাপে কৃষকদের বাধ্য করেছে। বাঁধ কেটে পরে উত্তর অংশে পানি বেড়ে যায়।
স্থানীয় কৃষকের দুশ্চিন্তা
‘আগে ভয় ছিল বাঁধ, এবার নতুন করে শুরু হয়েছে জলাবদ্ধতার ভয়।’ – কৃষক শরিয়ত উল্লাহ
২০১৮ সাল থেকে সুনামগঞ্জে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। কাজ নিয়ে বিশেষজ্ঞ আবদুল হাই চৌধুরী বলছেন যে হাওরের নাব্যতা কমেছে। পলি পড়ে নদী ও হাওর বাঁধ তৈরি হয়েছে। বাঁধ ব্যবসায় অপরিকল্পিত কাজে ফসল রক্ষার পরিবর্তে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন হাওর-গবেষক।
২০১৮ সাল থেকে হাওরে ফসল রক্ষায় ৭ �
