পাঁচ বছরেও কেন কাজ শেষ হলো না
প চ বছর ও ক ন ক – টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাঁকড়ার খালের ওপর অবস্থিত এলজিইডি কর্তৃক নির্মাণাধীন সেতুটি দেখতে গেলে আশ্চর্য হতে হয়। কর্মাদেশ অনুযায়ী ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, তার মাত্র অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র পাঁচ বছর পরে।
যে প্রতিষ্ঠানের কাছে কর্ম বরাবর চলছে, তাদের খামখেয়ালি ও কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে সেখানে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। করটিয়াপাড়া, কালিদাস, বহুরিয়া ও চতলবাইদ এলাকার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল এই সেতু।
খালের দুই পাশে অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় যাত্রীরা অনেক সময় দুই পাশে গাড়ি ধরে পার হতে হয়। সড়কটি আট কিলোমিটার দীর্ঘ, কিন্তু মাঝখানের দুই পাশে সেতু না থাকায় এখন সড়কটি অব্যবহৃত হচ্ছে। কৃষকদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে।
খুব কম সময়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে বলে বলা যায়, কিন্তু সেতু কাজ শেষ না করায় এই সড়কটি কার্যকর হয়নি। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার কাজ শেষ করতে চায়নি।
এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশ্ন হলো বছর বছর কাজ ফেলে রাখার কারণে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?
মানুষের কোটি কোটি টাকার করে কর্তৃপক্ষের ব্যয়ে তৈরি সড়কটি সেতু না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ ধরনের অরাজকতা আমাদের দেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়হীনতা ও পার হওয়া সংস্কৃতির কারণে দেখা দিয়েছে।
আমাদের আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ করে না এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করবে। তার পর কাজ ফেলে রাখা সত্ত্বেও সেতুর বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেবে।
