Uncategorized

ইসলামে ধনসম্পদকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়

ইসলামে ধনসম্পদকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় ইসল ম ধনসম পদক ক ভ ব - ইসলামে ধনসম্পদ কোনো নিন্দনীয় বা প্রশংসনীয় বস্তু নয়। সম্পদ মূলত একটি নিরপেক্ষ মাধ্যম বা

Desk Uncategorized
Published June 3, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

ইসলামে ধনসম্পদকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়

ইসল ম ধনসম পদক ক ভ ব – ইসলামে ধনসম্পদ কোনো নিন্দনীয় বা প্রশংসনীয় বস্তু নয়। সম্পদ মূলত একটি নিরপেক্ষ মাধ্যম বা উসিলা। এর নিজস্ব কোনো নৈতিক গুণ নেই, এর ভালো-মন্দ নির্ভর করে ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ওপর। তা যেহেতু ব্যবহার করার প্রক্রিয়া দ্বারা নির্ধারিত হয়, সেহেতু এটি একটি ধারালো তরবারির সাথে তুলনা করা যায়।

যেমন তলোয়ারের সত্তায় কোনো সংকট নেই, কিন্তু কাজের উপর ভিত্তি করে সেটি একে অপরে প্রশংসনীয় বা নিন্দনীয় মনে হতে পারে। সম্পদের প্রতি মূল্যায়ন করা হয় এটি কিভাবে ব্যবহৃত হয় তার ওপর।

আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, ‘নবীজি আমার কাছে একজন দূত পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন আমি আমার পোশাক ও অস্ত্র পরিধান করে তাঁর কাছে উপস্থিত হই। আমি নির্দেশ মোতাবেক তাঁর দরবারে গেলাম। তখন তিনি অজু করছিলেন। তিনি আমার দিকে দৃষ্টি তুললেন, তারপর মাথা নিচু করলেন এবং বললেন, “আমর, তোমাকে একটি যুদ্ধাভিযানে পাঠাতে চাই, যেখানে আল্লাহ তোমাকে নিরাপদ রাখবেন এবং প্রচুর গণিমত দান করবেন। তোমার জন্য একটি উত্তম সম্পদের আশা করছি।”‘ আমি আরজ করলাম, আল্লাহর রাসুল, সম্পদের লোভে আমি ইসলাম গ্রহণ করিনি; বরং ইসলামের প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার সাহচর্য লাভের আশায় মুসলিম হয়েছি। নবীজি বললেন, ‘আমর, মানুষের জন্য সৎ সম্পদ কতই না চমৎকার!’ (আল–আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ২৯৯)

ইমাম তাহাবি (রহ.) হাদিসটি ব্যাখ্যা করেছেন, সম্পদ শুধু তখনই কল্যাণময় বলে গণ্য হয়, যখন তা দিয়ে সেসব কাজ করা হয় যা আল্লাহ নিজে নির্দেশ দিয়েছেন। সম্পদের কার্যকারিতা আসে তার মালিকের সদিচ্ছার মাধ্যমে। কোনো ব্যক্তি যে বৈধ মালিকানাধীন সম্পদ তার সৎ কর্মে ব্যয় করেন, তিনি সৎ মানুষ হিসেবে গণ্য হন। (ইমাম তাহাবি, শারহু মুশকিলিল আসার, ১৫/৩২৭, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত)

ওয়াক্‌ফ সম্পর্কে ইসলামের মতবাদ

সম্পদকে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেওয়া মানসিকতাকে ইসলাম উত্তম করেছে। অপরের এই গুণ দেখে নিজের মনে তেমন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একমাত্র দুটি বিষয়েই হিংসা করা যায়। প্রথমত, সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ ধনসম্পদ দান করেছেন, তারপর তাকে সেই সম্পদ ন্যায়ের কাজে বিলিয়ে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছেন…’ (সুহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩)

এখান থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে সমাজে সৎ মানুষেরা দুই ধরনের হতে পারে। একটি বিত্তশালী ব্যক্তি যে ব্যয় করেন মানবকল্যাণে আল্লাহর দেওয়া সম্পদকে। আর একটি দরিদ্র ব্যক্তি যে যদি সম্পদ থাকত তবে সে সম্পদের ব্যবহারে তার সৎ কর্মে অবদান রাখতে পারত। নিয়তের বিশুদ্ধতার কারণে ইসলামে উভয়কেই সৎকর্মশীলদের কাতারে শামিল করা হয়েছে।

আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের একটি ভুল ধারণ

Leave a Comment