অপরিপক্ব লিচুকে ‘মধু’ ‘মধু’ বলে বিক্রি, সুনাম হারাচ্ছে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু
অপর পক ব ল চ ক মধ – মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে গত কয়েক দিন ধরে লিচু চাষি ও ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ব ফল বিক্রি করায় সুনাম নষ্ট হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করছেন একজন বন্ধু তাঁর মুখভঙ্গি দেখে বোঝা গেল যে তিনি টক লিচু খেয়েছেন। কিন্তু ভিডিও করে দেখানোর জন্য সেই আধপাকা লিচুকে মধু বলে প্রচার করছেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে কিশোরগঞ্জ সহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে নানা বয়সী মানুষ পরিবার নিয়ে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে আসছেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপারীরা অপরিপক্ব লিচু বিক্রি করছেন যা কমপক্ষে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখান থেকে আসা ক্রেতারা অনেকে ইচ্ছামতো লিচু কিনছেন না।
“পথে লিচু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মঙ্গলবাড়িয়ায় সেই লিচু খুব বেশি দামে কিনতে হয়। নিজের গাছ নেই তাই মুকুল আসার পর অন্যের ৩০০ গাছ কিনে পরিচর্যা করেছি। অপরিপক্ব লিচু বিক্রির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে খোকন মিয়া বলেন, ‘একটু আগেভাগে বিক্রি শুরু না করলে গাছ থেকে লিচু কিনে বিক্রি করা যাবে না’।
পাকুন্দিয়া সদর বাজারে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে পাকুন্দিয়া উপজেলার স্কুল শিক্ষক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবাড়িয়া লিচুগ্রাম ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গতবারের তুলনায় এবার দাম কম।’
হোসেনপুর উপজেলার আফজাল হোসেন বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তানদের কথা ভেবে ৫০০ টাকা দিয়ে ১০০টি লিচু কিনেছি। প্রশাসনের উচিত সময় বেঁধে দেওয়া যাতে বিক্রেতারা লিচু পেড়ে বিক্রি করেন।’
মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুগ্রামে গাছের নিচে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে লিচু বিক্রি করছেন খোকন মিয়া। তিনি জানান, ‘আমি এখনো লিচুগাছে হাত দেব না। স্বাদে-গুণে ভরপুর হলেই পাড়া শুরু করব।’
জনশ্রুতি আছে যে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে প্রথম লিচুর চাষ শুরু হয়েছিল ১৮০২ সালে। গ্রামের এক ব্যক্তি চীনে পড়তে গিয়ে দুটি লিচুর চারা এনে লাগিয়েছিলেন। এখন মঙ্গলবাড়িয়া ও পাশের কুমারপুড়, নারান্দী, হোসেন্দী গ্রামে মোট দুই হাজার লিচুগাছ আছে।
আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় এলাকার চাষিরা প্রতি সপ্তাহে দুই হাজার টাকা আয়ের আশা করছেন। পাকুন্দিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন, ‘বেলে ও দোআঁশ মাটি জন্য লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। আকর্ষণীয় গোলাপি রং ও ছোট বিচি কারণে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর পরিচিতি আছে।’
