হাতপাখার গ্রামে’ হাতপাখা তৈরির ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে
হ তপ খ র গ র ম – ঘরের আঙিনা, বারান্দা বা উঠানে হাতপাখা বানানো কাজ গুরুতর হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর গরমের কারণে এ পেশার চাহিদা বেড়েছে। এখন পাখা বিক্রির দাম আগের চেয়ে বেশি হয়েছে, কিছু বাড়িতে এটি শুধুমাত্র হাজার টাকার কাছাকাছি পর্যন্ত গিয়েছে।
টেকপাড়া ও বর্মনপাড়া এখন ‘হাতপাখার গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত
দামপাড়া ইউনিয়নের দুই গ্রাম টেকপাড়া ও বর্মনপাড়াতে প্রায় তিন শতাধিক মহিলা কাজ করছেন। কেউ তালপাতা রোদে শুকিয়ে তুলছেন, কেউ পাখার কাঠামো তৈরি করছেন। শিশুদের সহায়তা করে গল্প করতে করতে কাজ করা দেখা গেল।
আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে হাতপাখা তৈরি করছি। এখন এগুলো ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে তাহলে পাঁচ টাকায় বিক্রি করতেন। এ বিষয়ে কারিগরদের অভিযোগ, কোনও সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি।
এই গ্রাম দুই শতাধিক পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে মহিলাদের কাছে পরিচিত। পাঁচ বছর আগে হাতপাখা বানানো কাজ কেবলমাত্র হিন্দু পরিবারের মহিলারা করতেন। এখন মুসলিম মহিলারা এতে যোগ দিয়েছেন।
খুচরা বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকায়
হাতপাখা তৈরির জন্য আগের চেয়ে বেশি সময় দরকার। আবার কাঁচামালের দামও বেড়েছে, যেন আয় স্থায়ী হয়ে আসছে। নরসিংদী থেকে আসা পাইকার আরজু মিয়া বলেন, তিনি প্রায় দেড় হাজার পাখা কিনেছেন এ দুই গ্রাম থেকে।
আমি আগে পাঁচ টাকায় বিক্রি করতেন, আবার হাজার টাকা পর্যন্ত চাহিদা বেড়েছে। গরমে বিদ্যুত বিভ্রাট চলার কারণে এ কাজ আরও জনপ্রিয় হয়েছে।
টেকপাড়া ও বর্মনপাড়াতে স্থানীয় কারিগর শুভা রানী বলেন, তিনি প্রায় ৫৫ বছর আগে হাতপাখা তৈরির কাজ শুরু করেন। পরে অন্যদের কাছে তাঁর পেশার অনুপ্রাণিত হয়েছেন। নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা এবং সিলেট থেকে পাইকারদের এ পেশার কাজে প্রবেশ করেছেন।
সংসার খরচ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা
পাখা বিক্রির আয় মাত্র সংসারের খরচ চালাতে সাহায্য করছে। এই কাজে একটি পরিবারের চারজন মহিলা অংশগ্রহণ করেন। হারেছা আক্তার বলেন, তার স্নাতকোত্তর মেয়ে ও তিনটি সন্তান কাজে সহায়তা করছে। এটি পাঠাশালার খরচ আয়োজন করতে সাহায্য করছে।
হাতপাখা বিক্রি করে সংসার টিকিয়ে রাখছি। কিন্তু কাঁচামালের দাম বেড়েছে, আয়ের সঙ্গে খরচ সম্পর্কে বিপর্যয় ঘটছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া পেশার ভবিষ্যৎ খুব কঠিন হ
