হরমুজ প্রণালিতে চাপ বাড়িয়ে কেন নিজেদের সাফল্য দেখছে ইরান
Banglaprabah.com – হরম জ প রণ ল ত ক – হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান এখন সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রের চলাচল সীমিত করার সক্ষমতাকেই বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরছে। তেহরানের দাবি, প্রণালির আশপাশে কয়েকটি জাহাজে সফল হামলার পর মার্কিন নৌযানগুলো ইরানের উপকূলসংলগ্ন এলাকা থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত জাহাজও ছিল বলে ইরানি পক্ষের বক্তব্য।
ইরানের জন্য এটি শুধু সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের বিষয় নয়; বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথে প্রভাব বজায় রাখার দাবিও এর সঙ্গে জড়িত। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা সরু এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়। ফলে সেখানে নৌচলাচলে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মার্কিন নৌযানের অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
ইরান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভাষ্য, মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো আগের অবস্থান থেকে পেছনে সরে গেছে। আগে সেগুলো চাবাহার বন্দর ও ওমান উপসাগরের প্রবেশমুখের কাছাকাছি ছিল বলে দাবি করা হয়। এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলো আরব সাগরের মধ্যাঞ্চলের দিকে, অর্থাৎ সমুদ্রের আরও গভীরে অবস্থান নিয়েছে বলে তেহরান বলছে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চাইছে, উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি আর আগের মতো ঝুঁকিমুক্ত নয়। যুদ্ধজাহাজকে দূরে সরিয়ে নিতে পারা ইরানের দৃষ্টিতে কৌশলগত সাফল্য, কারণ এতে উপকূলবর্তী এলাকায় তাদের নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়ামূলক সক্ষমতার প্রভাব দৃশ্যমান হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আগে জানিয়েছিল, মাসের শুরুতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়িয়ে চলতে মার্কিন জাহাজগুলো সক্ষম হয়েছিল। সাম্প্রতিক হামলা ও হতাহতের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
মেরিন সদস্যদের অসুস্থতা ও হতাহতের হিসাব
১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় আট মার্কিন মেরিন সদস্য ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের কয়েকজনের মস্তিষ্কে আঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলার সময় মেরিন সদস্যরা যে জাহাজে ছিলেন, সেটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ছিল না।
এর আগে পেন্টাগন যুদ্ধাহত মার্কিন সদস্যদের তালিকায় ২৯ জন নাবিক এবং ৮ জন মেরিন কোর সদস্যের নাম যুক্ত করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা এভাবে ৮৬১ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।
এই হতাহতের তথ্য ইরানের দাবিকে রাজনৈতিকভাবে জোরালো করার সুযোগ দিচ্ছে। তারা দেখাতে চাইছে, সামুদ্রিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও হরমুজের কাছাকাছি মোতায়েনের সঙ্গে বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা বজায় রেখে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখা।
সর্বোচ্চ নেতার বার্তায় আরব সাগরের প্রসঙ্গ
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন নৌবাহিনীর চলাচলের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, ইরানের উপকূলের কাছাকাছি উপস্থিতি বজায় রাখার যেকোনো প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
“যখনই তারা সেই ঝুঁকি নিয়েছে, তখনই নিজেদের জন্য ক্ষতি ডেকে এনেছে। আর শিগগিরই আরব সাগরও তাদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।”
এই বক্তব্যকে সামরিক হুমকির পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবেও দেখা যায়। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান বহুদিন ধরেই নিজেদের ভূগোলগত সুবিধার কথা বলে আসছে। আরব সাগর পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারের ভাষা ব্যবহার করে তারা সংঘাতের পরিসর আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনার বার্তাও দিচ্ছে।
তেল পরিবহন বাড়লেও স্বাভাবিকতা ফেরেনি
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগের তুলনায় বেশি জ্বালানিবাহী জাহাজ পার করাতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন নৌচলাচল এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। নিরাপত্তা ঝুঁকি, সামরিক উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা জাহাজমালিক ও তেলবাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের জন্য বাড়তি হিসাব-নিকাশ তৈরি করছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের হিসাব আরও বেশি—প্রতিদিন ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল। যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল যেত। সংখ্যাগুলোর পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট: নৌপথটি এখনো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্রে রয়েছে।
কেপলারের প্রাথমিক তথ্যে সেপ্টেম্বরে প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে ১৯টি তেলবাহী ট্যাংকার এ পথ ব্যবহার করেছে; এর মধ্যে ১৭টিই ছিল অতি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা ভিএলসিসি। একটি ভিএলসিসিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করা সম্ভব। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ওমান, কাতার, কুয়েত ও ইরান থেকে আসা তেল পরিবহনে এই নৌপথের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সমন্বয়ের দাবি ও ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি বলছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতে দেওয়া হচ্ছে না। এই দাবি কার্যত নৌচলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বার্তা দেয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অনিশ্চয়তা বাড়ায়।
উত্তেজনা আরও বাড়লে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য অস্ত্রের ব্যবহার, জাহাজ পাহারায় থাকা মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করা কিংবা মার্কিন সেনাসদস্যদের হতাহতের চেষ্টা—সবই সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে সামনে আসতে পারে।
স্কট বেসেন্টের দাবি, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান নিজেদের তেল রপ্তানি করতে পারছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে আগে থেকে মজুত থাকা প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল তেলই এখন ইরানের হাতে রয়েছে, যা সম্ভবত দুই সপ্তাহের মধ্যে চীনে পাঠানো হতে পারে। এই অর্থনৈতিক চাপও তেহরানের সামুদ্রিক অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ঘোষিত ‘জয়’ কেবল কোনো একটি হামলার ফল নয়। এটি সামরিক চাপ, নৌপথের ওপর প্রভাবের দাবি, জ্বালানি প্রবাহের কৌশলগত গুরুত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য করার একটি বৃহত্তর হিসাবের অংশ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is হরম জ প রণ ল ত ক?
হরম জ প রণ ল ত ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does হরম জ প রণ ল ত ক matter?
হরম জ প রণ ল ত ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

