সুন্দরবনে ছয় জেলেকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে
স ন দরবন ছয় জ ল ক – সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশনে গত রোববার রাতে ছয় জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। তাঁদের স্বজনদের দাবি, অপহৃত ব্যক্তিরা প্রথমে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোট দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। যদি টাকা দেওয়া না হয় তবে দুই ভাইকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
অপহরণের সময় শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের ইসমাইল খাঁ (৩৫) দস্যুদের হামলায় আহত হন। তাঁকে নৌকার বৈঠা দিয়ে মাথায় আঘাত করে বলে অভিযোগ। তিনি শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা তাঁর মাথায় সাতটি সেলাই দিয়েছেন।
স্বজনদের ভাষ্য, বনদস্যুদের সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করেছেন নওয়াব আলী গাজী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানাভাই ওরফে ডন বাহিনীর সাথে কাজ করে আসছেন এবং খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে হরিনগর বাজার থেকে চাল, ডাল ও লবণ কেনার পর তাঁকে আটক করা হয়। তিনি নিজের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় লোকজন তাঁকে গ্রেফতার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন বনদস্যুদের সহযোগিতা করেছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা থলে থেকে চার বোতল বিষ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে বলেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খালেদুর রহমান, অভিযোগগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কদমতলা স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম নাম জানার পর ঘটনাটি তাঁর জানা ছিল না। তবে ব্যক্তিদের পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অপহৃত ব্যক্তিরা গত ১৬ মে কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য বনাঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ মে রাতের মধ্যে ফিরে আসার কথা ছিল। গত রোববার অপহরণের পর তাদের আহত করেছে দস্যুরা। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি খালেদুর রহমান জানান।
