সিটি গ্রুপ সংকট: একটি ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের গল্প, নাকি বাংলাদেশের অর্থনীতির আয়না?
স ট গ র প স কট – নদী যত বড় হয়, তার শুকিয়ে যেতে তত বেশি সময় লাগে। পলি জমে ওঠে, প্রবাহ হ্রাস পায় এবং কোথাও কোথাও চর উঠে আসে। এই ব্যবসায়িক সংকটের কথা বলতে গিয়ে সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সফল প্রতিষ্ঠানও শেষ পর্যায়ে সীমাহীন খরচ করে ফেলে।
ব্যবসায়িক বিস্তারের পরিণতি
বাংলাদেশের সিটি গ্রুপকে ঘিরে বর্তমান আলোচনা কেবল তাদের ২৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে নয়। এটি বিশাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের কর্পোরেট অর্থনীতি এবং ব্যাংকিং খাতের গোপন কারণগুলোর প্রতিফলন হিসেবে চিহ্নিত হয়। অনেক কোটি মানুষের রান্নাঘরে এই গোষ্ঠী নীরব ভাবে অস্তিত্ব রক্ষা করেছে যেখানে তাদের ব্যবসার প্রায় সব কিছু সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমস্যার সামনে আসছে।
বিশ্বের উদাহরণ এবং নিষ্ঠুর নিয়ম
পৃথিবীর ইতিহাসে সাফল্যের ভারে ধরা পড়েছে বড় বড় ব্যবসায়িক সংকট। যেমন ১৯৯৭ সালের এশীয় অর্থনৈতিক আঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক চেবোল গোষ্ঠী ধসে পড়েছিল যদিও তারা দুর্নীতির দোষী ছিল না। কিন্তু তারা অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছিল। সেই ভাবে অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠান সাম্প্রতিক সময়ে লেহম্যান ব্রাদার্সের পতন সাম্প্রতিক বিপর্যয় হিসেবে কিছু সম্পর্কে চিন্তা করতে হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের এভারগ্রান্ডের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সংকটও একই শিক্ষা দিয়েছে। অর্থনীতির একটি নিষ্ঠুর নিয়ম হলো আয় না হলে ঋণ ব্যবসার বন্ধু হয় না। বরং ধীরে ধীরে সেটি শত্রুতে পরিণত হয়। অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভর করে।
অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং প্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা
বাংলাদেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী সম্প্রতি সব খাতে প্রবেশ করেছে। খাদ্যপণ্য থেকে বিদ্যুৎ, রিয়েল এস্টেট থেকে স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত সমস্ত খাতে প্রবেশ করার পরিণতি হয়েছে। এই বিস্তারের অনেক অংশই হয়েছে ব্যাংক ঋণের উপর ভিত্তি করে। ফলে অনেক সময় এক বছরে জমা করা মূলধন সাত বছরের প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২১ সালে ডলারের মূল্য ছিল প্রায় ৮৫ টাকা। তার পর সাত বছরে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১২২-১২৫ টাকার কাছাকাছি। এই অবমূল্যায়নের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অনেক শিল্পগোষ্ঠীকে কোনো উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া প্রায় ৩,৮০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত চাপ করতে হয়েছে।
সুদের হার প্রায় তিন শতাংশ থেকে এখন দুই �
