Uncategorized

সমন্বিত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি চায় ব্রিকস

Capture-2

অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও শান্তির বার্তা দিল ব্রিকস

Banglaprabah.com – সমন ব ত ব শ ব ক – বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনোর প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছেন ব্রিকসের নেতারা। নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে তাঁরা সমন্বিত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে সংযম ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান এসেছে জোটটির পক্ষ থেকে।

রোববার শেষ হওয়া এই সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং স্বাগতিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আলোচনায় অর্থনীতি, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সবগুলো বিষয়ই গুরুত্ব পায়।

সহযোগিতাকেই শক্তি হিসেবে দেখছেন মোদি

সম্মেলনের সমাপনী পর্বে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিকস এখন শুধু কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি বিশ্বের বিপুল জনগোষ্ঠী ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতিনিধিত্বকারী একটি জোট। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিকস দেশগুলো বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনে তাদের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ববাণিজ্যে অংশ ২৫ শতাংশেরও বেশি।

এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করে তিনি জোটের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিভিন্ন সদস্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন হলেও সেই পার্থক্যকে দুর্বলতা না ভেবে যৌথ সক্ষমতায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

“আমাদের শক্তি বৈচিত্র্য ও সহযোগিতার মধ্যে নিহিত।”

মোদি বলেন, ব্রিকস অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির প্রশ্নটিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, সদস্যদেশগুলোর পথ ও বাস্তবতা এক নয়, কিন্তু সহযোগিতার মাধ্যমে তারা একসঙ্গে অগ্রসর হতে পারে এবং মানবকল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে। উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আন্তর্জাতিক কাঠামোয় আরও কার্যকর ভূমিকার প্রশ্নও এ ধরনের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত।

“আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছি।…আমাদের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু আমরা সহযোগিতার মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং মানবজাতির কল্যাণে বিকশিত হই।”

ন্যায্য ও বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার কথা পুতিনের

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকসের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কথা বলেন। তাঁর মতে, জোটটি এমন একটি বিশ্ব গঠনে কাজ করছে, যেখানে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র একমুখী না হয়ে বহুমাত্রিক হবে এবং তা তুলনামূলকভাবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংও বৈশ্বিক শৃঙ্খলা ও নিয়মের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি সতর্ক করেন, কার্যকর নিয়মবিধি ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গন দ্রুত বিশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্যে এমন একটি বিশ্বের চিত্র উঠে আসে, যেখানে নীতিগত নির্দেশনা না থাকলে সংঘাত ও অস্থিরতা এড়ানো কঠিন।

বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় ব্রিকসের নেতাদের এসব বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। জোটটির সদস্যরা সহযোগিতার কথা বললেও তাদের নিজস্ব স্বার্থ, আঞ্চলিক অবস্থান ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকার সব সময় একরকম নয়। তাই যৌথ অবস্থান তৈরি করাই ব্রিকসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নে বিরল ঐকমত্য

সম্মেলনের প্রথম দিন শনিবারের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যুদ্ধে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের পার্থক্য তখন ঐকমত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তবে এবারের শীর্ষ বৈঠকে ভারতের জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি বদলায়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ জোটের নেতারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মত হন। সেখানে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়।

“মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”

ঘোষণাপত্রে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বানও জানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যপথ, বিনিয়োগের আস্থা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রশ্নটি কেবল আঞ্চলিক নয়, বৃহত্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

নয়াদিল্লি ঘোষণায় অংশীদারদের গুরুত্ব

সম্মেলনের শুরুতেই শনিবার সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’। এতে ব্রিকস সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত অংশীদার দেশগুলোর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অংশীদারদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উন্নয়নমুখী।

এই অঙ্গীকারের তাৎপর্য হলো, ব্রিকস তার নিজস্ব সদস্যদের মধ্যেই সহযোগিতা সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং বিস্তৃত অংশীদারত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্র বাড়ানোর আগ্রহ দেখাচ্ছে। জোটটির ঘোষণায় প্রবৃদ্ধি ও শান্তির বিষয় পাশাপাশি আসায় বোঝা যায়, অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে তারা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্ন থেকে আলাদা করে দেখছে না।

নয়াদিল্লি সম্মেলনের শেষ বার্তাটি তাই দ্বিমুখী—একদিকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের দাবি, অন্যদিকে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে সংযম ও শান্তির আহ্বান। সদস্যদের বৈচিত্র্যের মধ্যেও এমন ন্যূনতম সমঝোতা ধরে রাখতে পারলে ব্রিকস আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে।

Frequently Asked Questions

What is সমন ব ত ব শ ব ক?

সমন ব ত ব শ ব ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সমন ব ত ব শ ব ক matter?

সমন ব ত ব শ ব ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *