Uncategorized

সংবিধানে ‘উপজাতি, নৃগোষ্ঠী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘আদিবাসী’ যুক্ত করার দাবি

স ব ধ ন উপজ ত ন - আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে 'উপজাতি' ও 'ক্ষুদ্র

Desk Uncategorized
Published August 6, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. সংবিধানে 'আদিবাসী' শব্দ যুক্তের দাবি ও ভূমি অধিকারের প্রয়োজনীয়তা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দ যুক্তের দাবি ও ভূমি অধিকারের প্রয়োজনীয়তা

Banglaprabah.com – স ব ধ ন উপজ ত ন – আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ‘উপজাতি’ ও ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। এই প্রস্তাবের পাশাপাশি আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি মালিকানার আইনগত স্বীকৃতি, কার্যকর ভূমি কমিশন গঠন এবং ভূমি দখল ও উচ্ছেদ রোধে সরকারের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সেমিনারের আয়োজন ও আলোচনা

বৃহস্পতিবার সকালে ‘আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমি অধিকার ও সাংস্কৃতিক সম্মান’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১৬টি মানবাধিকার ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ব্লাস্ট, টিআইবি, নিজেরা করি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে। মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওধান সেমিনারে আলোচনাপত্র উপস্থাপন করেন।

আলোচনাপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, সংবিধানের ২৩(ক) ধারায় থাকা ‘উপজাতি, নৃগোষ্ঠী’ শব্দগুলোর বদলে ‘ইন্ডিজেনাস পিপল’-এর যথোপযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দ যুক্ত করতে হবে।

আদিবাসী স্বীকৃতি ও ভূমি অধিকারের দাবি

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সেমিনারে বলেন, ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে না বলে সরাসরি ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার করে দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ঘুরিয়ে বলার প্রবণতা প্রকারান্তরে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিকে দুর্বল করছে এবং যারা আদিবাসী শব্দ ব্যবহারের বিপক্ষে, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।

ঘুরিয়ে বলার প্রবণতা প্রকারান্তরে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিকে দুর্বল করছে এবং যারা আদিবাসী শব্দ ব্যবহারের বিপক্ষে, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।

ইফতেখারুজ্জামানের মতে, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক, ভাষাগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নিজেদের আদিবাসী পরিচয়ে পরিচিত করার অধিকার আদিবাসীদের রয়েছে। তিনি বলেন, আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি মালিকানার আইনগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি কমিশন থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি কার্যকরভাবে ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারেনি। অন্যদিকে সমতলের আদিবাসীদের জন্য এখনো কোনো পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা হয়নি।

সংবিধানের বিধান ও বাস্তবায়ন

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সংবিধানে আদিবাসীদের অধিকারসংক্রান্ত যেসব বিধান রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই এখনো স্পষ্ট নয়। আবার কিছু বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নও করা যায়নি। তাঁর মতে, সংবিধানের এসব ধারার যথাযথ ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হলে আদিবাসীদের সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হবে না।

ভূমি, ভাষা ও সংস্কৃতি

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা বলেন, আদিবাসীদের ভূমি অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতি পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভূমি হারালে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে তিনি মাতৃভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পাঁচটি আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু করেছে। তবে শিক্ষকসংকটসহ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদেরও সন্তানদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিচর্চায় আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের ইতিবাচক অবস্থান

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ সেমিনারে মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার আদিবাসী ইস্যুতে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানে প্রত্যাশিতভাবে স্বীকৃতি না থাকলেও সরকারের বিভিন্ন নীতিগত নথিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি ও অধিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়া আশাব্যঞ্জক।

সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং গারো, সাঁওতাল, চাকমা, মারমাসহ দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে কাউকে পেছনে না ফেলে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আদিবাসীদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভূমি, বন, ভাষা ও মানবাধিকারের বিষয়গুলোতে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমসহ সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। তাঁর মতে, পারস্পরিক সম্মান, শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মাধ্যমেই একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিতে দাবি ও সুপারিশ

সেমিনারে আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিতে নিম্নলিখিত দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়:

১. জাতিসংঘের আদিবাসী-বিষয়ক স্থায়ী ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা।

২. আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে একটি পৃথক সেল গঠন করা।

৩. আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় পর্যটন উন্নয়নে তাঁদের সংস্কৃতি, জীবনধারা ও ঐতিহ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে নীতিমালা প্রণয়ন করা।

৪. আদিবাসীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা এবং অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ কোটা কার্যকর করা।

৫. আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয় আদিবাসী নারীদের স্বাস্থ্যকর্মী ও ধাত্রী হিসেবে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ব্যবস্থা করা।

সেমিনারটি পরিচালনা করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এতে আরও বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক ঈশিতা দস্তিদার।

Frequently Asked Questions

What is স ব ধ ন উপজ ত ন?

স ব ধ ন উপজ ত ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স ব ধ ন উপজ ত ন matter?

স ব ধ ন উপজ ত ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment