মাদক ব্যবসায়ী ছুরিকাঘাতে র্যাব সদস্যকে মারে এবং শিশুকে জিম্মি করার চেষ্টা করেন
সিলেটে ঘটে সংঘটনা
র য ব সদস যক ছ র – সিলেট নগরের তোপখানা এলাকার একটি বাসায় শুক্রবার পৌনে একটার দিকে এমন এক ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে বাসার দরজা খোলা ছিল, যেখানে দুই বছর বয়সী এক ছেলেশিশু বিছানায় খেলছিল। শিশুটির মা ও আরেক নারী একত্রে আলাপ করছিল। পুলিশের ধাওয়ায় বাসায় ঢুকে এক মাদক ব্যবসায়ী পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁর হাতে ছুরি ছিল।
পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দৌড়ে ঘরে ঢুকে মাদক ব্যবসায়ী শিশুর গলায় ছুরি ধরে হুমকি দেন: ‘কেউ চিল্লাবি না, চিল্লাইলেই পুছ দিমু।’
অতীতে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কিনব্রিজ এলাকায় কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাদক বিক্রি করছিল। তাঁদের খুঁজে পাওয়ার জন্য পুলিশের টহল দল তাঁদের ধাওয়া করে। এ সময় আসাদুল আলম ওরফে বাপ্পী নামের মাদক ব্যবসায়ী তোপখানা এলাকার রাস্তায় দৌড়ে পালায়। সেখানে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ব্যক্তিগত কাজে র্যাব কনস্টেবল ইমন আচার্য (২৮) অবস্থান করছিলেন।
আসাদুল তাঁকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় সদস্যের বুকের বাঁ পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় ইমনকে। তিনি বেলা দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
পালানোর চেষ্টা ও আটকে ধরা
অপরাজনে আসাদুল পালানোর চেষ্টা করেন। সে তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে শিশুর গলায় ছুরি ধরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। চিৎকার শুনে আশপাশের নারীরা তাঁদের কাছে আসে। এ সময় বাসায় থাকা পুরুষেরা কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
পুলিশের আট সদস্যের একটি দলও সেখানে পৌঁছে। আসাদুল কারও কথা শুনছিলেন না। তিনি পরিবারকে ভয় দেখাচ্ছিলেন এবং শিশুটির গলা ছুরি দিয়ে কেটে ফেলবেন বলে হুমকি দেন। এ ঘটনায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক মো. জামাল মিয়া, হাকিম কনস্টেবল ও উজ্জ্বল আহত হন।
অন্যদিকে আসাদুল আলমও আহত হন। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছেন, আসাদুলকে আটকের সময় ধস্তাধস্তি ঘটে। তিনি তোপখানা এলাকার একটি বাসায় প্রবেশ করেন। সেখানে এক দিনমজুর পরিবার ভাড়ায় থাকেন। তাঁরা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাইছেন না এবং সাক্ষী হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।
মামলা ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
পুলিশ জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবার আসাদুল আলমকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা হয়েছে।
