রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদল কেন জরুরি
র জন ত ক স স ক – গণ-অভ্যুত্থানের পরে রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনরায় স্থিতিশীলতার পথে আসা কখনও কঠিন হতে পারে। অনেক সময় সেই প্রেক্ষাপট ইতিবাচক পরিবর্তনের চিহ্ন হতে পারে। এক বছরের মধ্যে সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছিল, এলাকার বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ এবং প্রতিমন্ত্রী সংক্রান্ত বিষয়গুলি হালে আসে। কিন্তু কতটা বদল দেখছি বা প্রত্যাশা করছি, সেটি একটি বড় প্রশ্ন আঁকে আসে।
সংস্কার করা কতটা আবশ্যক তা সনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে। যেখানে নেতা-কর্মী ও অংশীদারদের আধিপত্য চালু রাখে। সেই সংস্কৃতিতে দলীয় সুবিধা ও আনুগত্যের আধিক্য দেখা যায়। এ বিষয়টি আমাদের সামাজিক ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর কাঠামোয় পরিণত করেছে।
সংস্কারের সামনে পুরোনো চ্যালেঞ্জ
বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক উত্থানের অগ্রযাত্রায় সেসব দেশ সাফল্য পেয়েছে যে রাজনৈতিক দলগুলি সমাজে অংশগ্রহণ করে। তাদের প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা না করে স্থিতিশীলতা নির্মাণ করেছে। বিজয়ীদের উদারতা ও পরাজিতদের নিরাপত্তার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নির্ধারিত হয়।
যে কারণে বলছি, এটি এখন আমাদের সংস্কৃতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়ছে।
আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংকট জাতীয় রাজনীতি থেকে নাগরিক অভ্যাসের সংকটে পরিণত হয়েছে। সংস্কার করা সাংস্কৃতিক রূপান্তর ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন সম্ভব নয়। নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অনেক কাজ করা প্রয়োজন যেমন জবাবদিহি চর্চা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন থেকে জাতির মুক্তি এবং প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া।
গণ-অভ্যুত্থান পুনরায় দলীয় আধিপত্যের বদলে নৈতিক অবস্থান ও সত্য বলার সাহস তৈরি করতে হবে। এ যেন রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক দুষ্ট চক্র হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে মেধার মূল্যায়ন প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের ভিত্তিতে হয়। আমাদের দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সেই বিষয়গুলি চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়।
সংস্কার করা কিংবা কোনো বদল যদি কাজ করে না, তাহলে আমাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভাব দেখা যাবে। অনেক সময় নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সীমান্তে পুরোনো চ্যালেঞ্জ উঠে আসে। কেবল শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলি সেই বদলের উপায় হতে পারে।
