Uncategorized

মুসলমান কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ করে জাতিসংঘে চিঠি লেখায় মামলা করেছে পুলিশ: মহুয়া মৈত্র

2-1

মুসলিম কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগে মহুয়ার চিঠি

Banglaprabah.com – ম সলম ন কর মকর ত দ – মুসলিম কর্মকর্তাদের সরকারি দায়িত্ব ও কর্মসূচি থেকে দূরে রাখার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

মহুয়ার ভাষ্য, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার বিষ্ণুপুর থানায় হাজির হতে সমন পাঠানো হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারে তাঁর পোস্টকে কেন্দ্র করে লিখিত অভিযোগের পর সাইবার অপরাধসংক্রান্ত পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। বিজেপির পক্ষ থেকেও প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তিন কর্মকর্তাকে ঘিরে অভিযোগ

১ সেপ্টেম্বর এক্সে দেওয়া পোস্টে মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় মুসলিম পরিচয়ের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে সরকারি অনুষ্ঠান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়। তাঁর দাবি, এটি রাজ্য প্রশাসনের সাম্প্রদায়িক আচরণের উদাহরণ।

অভিযোগে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা, স্পেশাল টাস্কফোর্সের মহানির্দেশক জাভেদ শামিম এবং প্রবীণ আইএএস কর্মকর্তা খলিল আহমেদের নাম এসেছে। মহুয়ার দাবি, উত্তরবঙ্গ সফরের সময় ওয়াকার রাজাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভ্যর্থনার দায়িত্বপ্রাপ্ত তালিকায় রাখা হয়নি। জাভেদ শামিমকে সরকারি কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খলিল আহমেদকে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি বৈঠকের মাঝখানে কক্ষ ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন মহুয়া। তাঁর মতে, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; একই ধরনের বর্জনের ধারাবাহিকতার অংশ।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির কাছে আবেদন

মহুয়া মৈত্র জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের সংখ্যালঘু অধিকারসংক্রান্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নিকোলাস লেভরাটকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই ও আগস্টে অমিত শাহের তিন দফা পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক বা সরকারি আয়োজন থেকে দূরে রাখা হয়।

তাঁর বক্তব্য, অন্য ধর্মের কর্মকর্তারা স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও এই তিন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে। মুসলিম কর্মকর্তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করা হয়ে থাকলে তা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সমঅধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে বলে তিনি মনে করেন।

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সরকারি দায়িত্ব থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

চিঠিতে মহুয়া আরও বলেন, কর্মকর্তাদের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের প্রটোকল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই তাঁদের অনুপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মহুয়া মৈত্র জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে সরকারি অনুষ্ঠান, বৈঠক ও দায়িত্ব বণ্টনে কোনো কর্মকর্তার ধর্মীয় পরিচয় যেন বিবেচ্য না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি করেছেন তিনি।

তিনি সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির নীতির কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ভিন্ন আচরণ সমঅধিকার ও বৈষম্যহীনতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

মহুয়ার মতে, পুলিশ, নিরাপত্তা সংস্থা ও প্রশাসনিক দপ্তরকে সব সম্প্রদায়ের প্রতি নিরপেক্ষ থাকতে হবে। পেশাগত যোগ্যতা ও দায়িত্বের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা বজায় থাকবে।

প্রশ্নোত্তর

মহুয়া মৈত্র কী অভিযোগ করেছেন? তিনি অভিযোগ করেছেন, অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় কয়েকজন মুসলিম কর্মকর্তাকে সরকারি দায়িত্ব ও অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

কার কাছে চিঠি দিয়েছেন মহুয়া? তিনি জাতিসংঘের সংখ্যালঘু অধিকারসংক্রান্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নিকোলাস লেভরাটকে চিঠি দিয়েছেন।

পুলিশি মামলার বিষয়ে কী জানা গেছে? মহুয়ার দাবি, তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে অভিযোগ হয়েছে এবং তাঁকে বিষ্ণুপুর থানায় হাজির হওয়ার সমন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Frequently Asked Questions

What is ম সলম ন কর মকর ত দ?

ম সলম ন কর মকর ত দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম সলম ন কর মকর ত দ matter?

ম সলম ন কর মকর ত দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *