Uncategorized

মায়ার সেই আঙিনায়

মায়ার সেই আঙিনায় বিদায়ের সংঘটন ম য় র স ই আঙ ন - ম য় র স ই আঙ নির্ধারিত হয়েছিল ঈদের প্রায় এক মাস আগে। প্রতিবার নানু ফোনে জিজ্ঞাসা করত, ‘বাড়ি আইবি কবে?

Desk Uncategorized
Published May 21, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

মায়ার সেই আঙিনায়

বিদায়ের সংঘটন

ম য় র স ই আঙ ন – ম য় র স ই আঙ নির্ধারিত হয়েছিল ঈদের প্রায় এক মাস আগে। প্রতিবার নানু ফোনে জিজ্ঞাসা করত, ‘বাড়ি আইবি কবে? তুই কবে রওনা দিবি?’ মাকে অনুরোধ করে তার প্রশ্ন উত্তর পেতাম। আমি স্বাভাবিক হতে চাইতাম নানুকে, কিন্তু তার নিরন্তর সংলাপ মনে করিয়ে দিত যে সেই আঙিনার রোমান্স আমাদের জন্য দরকার।

পরিবারের অপেক্ষা

ঈদের কয়েক দিন আগে ট্রেনের টিকিট কেটে রাখা হয়েছিল। সেই দিন ভোরের আলো উজ্জ্বল হওয়ার আগে সাহ্রি খাওয়া হয়েছিল। আমাদের অপেক্ষার শেষ মুহূর্তে রেললাইনের গায়ে শিশির শব্দ শুনতে হতো। কুলি লাল গামছা কাঁধে ঝুলিয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করেছিল সামনে। মায়ের কথায় আব্বা যেন আবারও সিট খুঁজে বের করতেন প্ল্যাটফর্মে।

‘আম্মা, ট্রেন তো ছাইড়া দিছে! আব্বা উঠবে ক্যামনে? আব্বারে ডাক দেন! তাড়াতাড়ি উঠতে বলেন!’

ম য় র স ই আঙ আইবি আগে থেকে সব ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরে নানু ফোনে জিজ্ঞাসা করত, ‘কী রে… কোন জায়গায় আছস তোরা? ম য় র স ই আঙ ট্রেনে ঠিকমতো উইঠা বইছস তো?’ আমি শান্তস্বরে বলতাম, ‘বসছি, বসছি। তুমি চিন্তা কইরো না।’ নানুর সঙ্গে যেন সেই একই প্রশ্ন আবারও আসত ফোনের মাধ্যমে।

মায়ের সেই আঙিনায় আমার সব কিছু তখন স্বাভাবিক হতো। কিন্তু আব্বার গলার স্বর যেন আবারও আশ্বাস জানাতে চাইত। ‘জানালার বাইরে মাথা দিবা না, ম য় র স ই আঙ কথা শুনবা।’ এই বাক্যে ব্যাগগুলো ওপরে গুঁজে রেখে আমরা দাঁড়াতাম। তার স্বরে আমাদের সবাই হাসতাম।

ভোরের আকাশ আমাদের অপেক্ষার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিবার রেললাইনের গায়ে শিশির সঙ্গে চিকচিক করত। লোহার চাকা আর ঘর্ষণে দীর্ঘশ্বাসের মতো শব্দ যেন আবারও জাগত। যেন আমাদের সেই আঙিনায় নিস্তব্ধতা আবারও একটু আসত। এবং মায়ের সেই আঙিনায় মনে হতো আমাদের কত কিছু হারিয়েছি।

যখন ট্রেন ছুটে চলত, আব্বা দূরে ওই পথে চলে যেতে থাকেন। যেন এক কোনো ক্ষীণ স্পর্শে মিশে ছিল কত আশ্বাস, কত না–বলা কথা। ম য় র স ই আঙ নে সবাই আবারও একই সংঘটন বারবার অনুভব করতে চাইত। যেন আমাদের পরিবারের বিদায় হওয়ার প্রতিক্রমণ করতেছি।

‘আচ্ছা, তোমরা তাইলে থাকো। ঠিক আছে?’

ম য় র স ই আঙ নির্ধারিত দিন আমাদের মনে আসত প্রতিদিন। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর কিছুক্ষণ আমরা অপেক্ষা করতাম আব্বার সঙ্গে যেন বিদায় হওয়ার সেই বাইরে কথা বলার জন্য। আমাদের সেই আঙিনায় কত কিছু বাকি ছিল অনুভব করতে হত।

Leave a Comment