বার্লিনে বিশ্বসংস্কৃতির ‘মহামিছিল’, নজর কাড়লেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা
ব র ল ন ব শ বস – বার্লিনের রাস্তার দুই পাশে প্রায় আট লাখ মানুষের দুর্দান্ত জমায়েত হয়েছিল। জার্মানিতে এই উৎসব বিশ্বসংস্কৃতির বড় উৎসব হিসেবে পরিচিত। তবে সেই উৎসবের স্থান বার্লিনের বেঙ্গলিশে কুলটর ফোরামের ব্যবস্থা ছিল। দুর্দান্ত ভিড়ে নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে বার্লিনে অসাধারণ ভাবে প্রকাশ পেয়েছিল বাংলাদেশি বাসিন্দারা।
অভিবাসীবিরোধী জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা ইউরোপে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বসংস্কৃতির এ মিলনমেলায় অংশ গ্রহণকারীদের বর্ণাঢ্য পোশাক এবং সংস্কৃতির উপস্থাপনায় তাঁদের সমাজে প্রতিবাদের আবেগ নিশ্চিত হয়েছিল। যে উৎসবটি জার্মান ভাষায় ‘কার্নিভ্যাল ডের কুলটুর’ নামে পরিচিত।
সংস্কৃতি উপলক্ষে গতকাল বার্লিনে উঠান বাংলার নামে একটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শিশু-কিশোরেরা বিশ্বসংস্কৃতির রং ছড়িয়ে পরেছিল তাদের পোশাকে। উৎসবটি ২৪ মে বার্লিনের ফ্রাঙ্কফুর্ট অ্যাভিনিউ থেকে কার্ল মার্ক্স অ্যাভিনিউ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে সংগঠিত হয়েছিল।
“এদিন রাস্তার দুই পাশে প্রায় আট লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল।” – টাগেস স্পিগেল পত্রিকা
১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া এ উৎসব বর্ণবাদ এবং জাতিবৈষম্য বিরুদ্ধে প্রতিবাদের উপাদান ছিল। সেই সময় এটি একটি প্রতীকী সংস্কৃতি প্রতিবাদ হিসেবে কাজ করেছিল। এখন এটি আর বিশ্বসংস্কৃতির মহামিছিলে পরিণত হয়েছে। নানা জাতি-ধর্ম-সংস্কৃতির মানুষ উৎসবে যোগ দিয়ে নিজেদের ঐক্য ও সংস্কৃতির মূল্য জাহির করেছেন।
বার্লিনের উৎসবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সংগঠিত প্রতিবাদ ছিল। কৃষ্টি-সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁদের দৃঢ় অবস্থান জানানো হয়েছিল। নারীরা লাল শাড়ি এবং দেশীয় অলংকার পরে উৎসবে অংশ নেন। পুরুষেরা লুঙ্গি ও ফতুয়া পরেন। তাঁরা গামছা মাথায় বাঁধেন।
প্রতিবছর এ উৎসবে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপে বর্ণবাদ ও অভিবাসীবিদ্বেষের প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ এখন অপরিহার্য। উৎসবে বার্লিনে প্রায় এক কোটি অভিবাসী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন বলে জানান উদ্যোক্তারা।
