নাজমিন বেগম: বাবার কবির মুখে এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা বিস্তার
ব ব র স মরণ ফ র – অদম্য মেধাবী নাজমিন বেগম সিলেটের দূরত্ব ছাড়া থাকা এলাকার মানুষ হিসেবে নিজেকে দাঁড় করানো সম্ভব করেছেন অসাধারণ সাহস ও অপরাহত পরিশ্রমের মাধ্যমে। তিনি অনুসন্ধান করে নির্বিশেষ্য সেবা প্রদান করছেন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে।
ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের সহায়তায় তাঁর এইচএসসি এবং এমবিবিএস পর্যায়ে শিক্ষার বিশেষ বৃত্তি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি আল-হারামাইন হাসপাতালের শিশু বিভাগে সিনিয়র মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক ডিগ্রি এমআরসিপিসিএইচ পার্ট-১ পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়েছেন।
গ্রামের স্বাস্থ্য জন্য প্রতিশ্রুতি পূরণ
গত মে মাসের ২২ তারিখে তিনি নিজের বাসার প্রতিকূল অবস্থায় স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত করেছেন। সকাল থেকে প্রচুর বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ অভাবের মুখোমুখি হয়ে তিনি একটি স্থানে রোগীদের সমাগম ঘটিয়েছেন। বৃষ্টির কারণে সবাই একসাথে আসেনি, কিন্তু তিনি পর পর চার-পাঁচ জন রোগী পরিষেবা প্রদান করেছেন। চারুক্ষণের জন্য তিনি প্রায় ৪০ জন মানুষকে চিকিৎসা করেছেন।
‘আমি আসলে বাবার স্বপ্নের প্রতিফলন। আমার আব্বা বলতেন, কেউ অসুস্থ মানুষ দেখলে কত পুণ্য হয়। তুমি এমন পেশায় আছ যেখানে তুমি অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার সঙ্গে জড়িত। আমি হেসে বলতাম, ঠিক আছে আমি দোয়া করি যেন অর্ধেক সওয়াব আল্লাহ তোমাকে দেন আর বাকি অর্ধেক আমাকে।’
বাবার মৃত্যুর পর তিনি গ্রামের মুরব্বিদের থেকে পেয়েছেন স্মারক। তার কথা বলেন, ‘এটি কেবল লিখিত একটি দলিল নয়, এটি আমার ভবিষ্যতের জন্য আরও ভালো কাজ করার প্রেরণা।’ ক্যাম্পটি সম্পন্ন করে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই দিনে মানুষের দোয়া ও সম্মান পেয়েছি। আব্বা আমাদের চারপাশে ঘুরছেন এবং মৃত্যুর পর ওনার স্বাস্থ্যের বিষয়ে মানুষ কথা বলছে। এটি আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।’
তিনি এইচএসসি ও এমবিবিএস পর্যায়ে সম্পূর্ণ শিক্ষার প্রাপ্তি ছাড়া অসম্ভব হয়ে ছিলেন। তাঁর জন্ম স্থানে তিনি বিশেষ সংস্থার সহায়তায় শিক্ষার কথা অনুভব করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা একজন চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।
