বগুড়ায় ব্যবসায়ী হত্যায় কফির সঙ্গে বিষ মেশানোর অভিযোগ
Banglaprabah.com – বগ ড় য় ব যবস য় ক – বগুড়ায় ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (৩৭) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার নাজিম উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বন্ধু মো. স্বপনের বিরোধ তৈরি হয় এবং সেই বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন নাজিম। জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার আরেক অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ধার দেওয়া টাকা নিয়ে বিরোধ
নিহত ওয়াহেদ হোসেন বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। ব্যবসার সূত্রে নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। নাজিম ও স্বপন একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহেদ তাঁর মায়ের নামে ওই বেসরকারি সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরে তিনি স্বপনকে দুই লাখ টাকা এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। সেই টাকা ফেরত চাওয়ার পর তিনজনের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে অভিযোগ।
কফি পান করানোর পর মৃত্যুর অভিযোগ
জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, ৭ আগস্ট বেলা পৌনে তিনটার দিকে ওয়াহেদকে মালগ্রাম এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডাকা হয়। এটি নাজিম ও স্বপনের কর্মস্থল ছিল। সন্ধ্যার দিকে তাঁকে কফি পান করতে দেওয়া হয় এবং ওই কফির সঙ্গে বিষ মেশানো ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
কফি পান করার পর ওয়াহেদের মৃত্যু হলে রাতে তাঁর মরদেহ বস্তাবন্দী করা হয়। পরে কার্যালয়ের কাছের মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেতে মরদেহটি ফেলে রাখা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর নাজিম ও স্বপন কার্যালয়েই রাত কাটান বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
পরদিন ৮ আগস্ট দুজন চাকরি ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান এবং আত্মগোপনের চেষ্টা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য। এ সময় নিখোঁজ ওয়াহেদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ধানখেত থেকে মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর, ১২ আগস্ট সকালে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার ধানখেত থেকে বস্তাবন্দী অর্ধগলিত একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রথমে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে সেটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে ওয়াহেদের স্বজনেরা মরদেহটি তাঁর বলে শনাক্ত করেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের আবেদনের পর আদালত নাজিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। রিমান্ড শেষে আদালতে দেওয়া তাঁর জবানবন্দিতে স্বপনের সংশ্লিষ্টতার কথাও এসেছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, নাজিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং অন্য অভিযুক্তের ভূমিকার তথ্যও দিয়েছেন।
স্বপনকে ধরতে অভিযান
পুলিশ জানিয়েছে, অপর অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। তবে ফৌজদারি মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পাশাপাশি সাক্ষ্য, আলামত, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং তদন্তের অন্যান্য উপাদান বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
প্রশ্নোত্তর
বগুড়ায় ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন কবে নিখোঁজ হন? তাঁকে ৭ আগস্ট মালগ্রাম এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
মরদেহ কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়? ১২ আগস্ট মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলায় এখন পর্যন্ত কী অগ্রগতি হয়েছে? নাজিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is বগ ড় য় ব যবস য় ক?
বগ ড় য় ব যবস য় ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does বগ ড় য় ব যবস য় ক matter?
বগ ড় য় ব যবস য় ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

