‘ফ্রাস্ট্রেটেড অ্যাচিভার’রা কেন হাসিনাকে প্রত্যাখ্যান করল
ফ র স ট র ট ড - জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি আপাতবিরোধী বৈশিষ্ট্য এখনো যথেষ্ট মনোযোগ পাচ্ছে না। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী তরুণেরা বাংলাদেশের উন্নয়ন থেকে
Table of Contents
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক অর্থনীতি: ফ্রাস্ট্রেটেড অ্যাচিভার্সদের বিদ্রোহ
Banglaprabah.com – ফ র স ট র ট ড – জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি আপাতবিরোধী বৈশিষ্ট্য এখনো যথেষ্ট মনোযোগ পাচ্ছে না। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী তরুণেরা বাংলাদেশের উন্নয়ন থেকে পুরোপুরি বাদ পড়া কোনো প্রজন্ম ছিল না। বরং তারা অনেকেই সেই ‘উন্নয়নেরই সন্তান’—পিতা-মাতার তুলনায় বেশি শিক্ষিত, প্রযুক্তিতে দক্ষ, বিশ্ব সম্পর্কে সচেতন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু এই ‘অর্জন’ তাদের প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান, সামাজিক গতিশীলতা, মর্যাদা কিংবা রাজনৈতিক কণ্ঠ নিশ্চিত করেনি। উন্নয়ন তাদের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়েছিল; কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথ ক্রমে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
এই তরুণদের বলা যায় ‘ফ্রাস্ট্রেটেড অ্যাচিভার্স’, বাংলায় ‘অর্জন সত্ত্বেও বঞ্চিত প্রজন্ম’। তারা ব্যর্থ বা নিষ্ক্রিয় ছিল না; বরং পরিবার ও রাষ্ট্র তাদের সামনে সাফল্যের যে মানদণ্ড স্থির করেছিল, তার অনেকগুলোই তারা পূরণ করেছিল। তারা শিক্ষিত হয়েছে, প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুত ভবিষ্যৎকে বিশ্বাস করেছে।
অর্জনের সাথে প্রাপ্তির ব্যবধান
কিন্তু অর্জনের সাথে প্রাপ্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবধানই তাদের হতাশার উৎস হয়ে ওঠে। শিক্ষা ছিল, কিন্তু শিক্ষার উপযুক্ত কাজ ছিল না; সনদ ছিল, কিন্তু সামাজিক উত্তরণের নিশ্চয়তা ছিল না; মেধা ছিল, কিন্তু প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রটি ন্যায্য বলে মনে হয়নি। নাগরিক হিসেবে অধিকার ছিল, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর কণ্ঠ ছিল না। অর্থাৎ তাদের হতাশা অর্জনের অনুপস্থিতি থেকে নয়, অর্জনকে অর্থবহ জীবনের সুযোগে রূপান্তর করতে না পারা একটি ব্যবস্থার ব্যর্থতা থেকে জন্ম নিয়েছিল।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, কুয়ালালামপুর থেকে সম্প্রচারিত অ্যাস্ট্রো আওয়ানির একটি সরাসরি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আমি প্রথমবারের মতো ‘ফ্রাস্ট্রেটেড অ্যাচিভার্স’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করি। শেখ হাসিনার পতনের মাত্র তিন দিন পর দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে আমার বক্তব্য ছিল, বিদ্রোহী তরুণেরা উন্নয়নের পরাজিত পক্ষ নয়; তারা ছিল উন্নয়নের সাফল্যে তৈরি, কিন্তু তারা প্রতিশ্রুত সুযোগ থেকে বঞ্চিত একটি প্রজন্ম।
আপেক্ষিক বঞ্চনার ধারণা
গত দুই বছরে জুলাইয়ের রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে আমার বিশ্লেষণের কেন্দ্রে এই ব্যাখ্যাই থেকেছে। কারণ, এটি একই সাথে বাংলাদেশের উন্নয়ন-সাফল্য এবং সেই সাফল্যের মধ্যেই জন্ম নেওয়া বিদ্রোহের আপাতবিরোধটি ধরতে সাহায্য করে। এখানে ‘আপেক্ষিক বঞ্চনা’র ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ শুধু তার বর্তমান আয় কিংবা অবস্থান দিয়ে সন্তুষ্টি বিচার করে না; সে প্রত্যাশা, যোগ্যতা এবং অন্যদের পাওয়া সুযোগের সাথেও নিজের অবস্থার তুলনা করে। তাই একই অর্থনৈতিক বাস্তবতা কম শিক্ষিত ও কম উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজে যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, শিক্ষার বিস্তার ও যোগাযোগপ্রযুক্তির যুগে তা ভিন্ন হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বের সাথে যুক্ত থাকা এবং রাষ্ট্রের সাফল্যের ভাষ্য শুনতে থাকা তরুণেরা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করে—উন্নয়নের মধ্যে আমার জায়গাটি কোথায়?
শিক্ষা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থানের সংকট
বাংলাদেশের শিক্ষা সম্প্রসারণ এই প্রশ্নকে আরও তীব্র করেছে। পরিবারগুলো বহু বছর ধরে সন্তানের শিক্ষায় বিনিয়োগ করেছে এই আশায় যে একটি সনদ নিরাপদ চাকরি ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করবে। কিন্তু অর্থনীতি পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকও জানিয়েছে, শহরের শিক্ষিত তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ কমেছে এবং বড় শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি স্থবির হয়েছে।
আইএলওর হিসাবে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ১৫-২৯ বছর বয়সী তরুণদের ২২ শতাংশ শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা প্রশিক্ষণ — কোনোটিতেই ছিল না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আরেকটি সরকারি হিসাবে চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক: ১৫-২৪ বছর বয়সীদের ৩৯ দশমিক ৮৮ শতাংশই শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল, যদিও বয়সসীমা ও জরিপপদ্ধতির পার্থক্যের কারণে দুটি হার সরাসরি তুলনীয় নয়। পাশাপাশি বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী স্নাতকদের বেকারত্বের হার ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ—সব শিক্ষাস্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই পরিসংখ্যানগুলো শিক্ষা সম্প্রসারণ ও শ্রমবাজারে সফল প্রবেশের মধ্যকার ভেঙে পড়া সংযোগকেই তুলে ধরে।
কোটা সংস্কার ও রাষ্ট্র-তরুণ সম্পর্ক
এ রকম প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরির কোটা কোনো কারিগরি নিয়োগবিধি ছিল না। মানসম্মত বেসরকারি চাকরির ঘাটতির মধ্যে সরকারি চাকরি নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সামাজিক উত্তরণের সবচেয়ে দৃশ্যমান পথগুলোর একটি। সেই সীমিত পথের বড় অংশ যখন উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পরিচির ভিত্তিতে সংরক্ষিত হলো, তখন শিক্ষার্থীরা শুধু কয়েকটি পদ হারানোর আশঙ্কা করেনি; তারা এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সুযোগ বণ্টনের একটি বৃহত্তর নীতি দেখতে পেয়েছিল।
তাদের চোখে এটি ছিল মেধার বিপরীতে পরিচিতি, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার বিপরীতে উত্তরাধিকার এবং নাগরিক সমতার বিপরীতে ক্ষমতার সুবিধাভোগীদের অগ্রাধিকার। এ কারণেই আদালত কোটা বড় মাত্রায় কমিটি দেওয়ার পরও আন্দোলন শেষ হয়নি। তত দিনে চাকরির দাবি রাষ্ট্রের সাথে তরুণদের সম্পর্কের প্রশ্নে পরিণত হয়েছিল। ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ মন্তব্য সেই বিচ্ছেদকে আরও গভীর করেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ফ র স ট র ট ড?
ফ র স ট র ট ড is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ফ র স ট র ট ড matter?
ফ র স ট র ট ড matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
