প্রসাধনী শিল্পের সুরক্ষায় ‘সমান সুযোগ’ চান দেশীয় উদ্যোক্তারা
প রস ধন শ ল প র – বাংলাদেশের কসমেটিক ও প্রসাধনী শিল্পে সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গঠনের দাবি জানিয়েছে খাতটির স্থানীয় উৎপাদকদের সংগঠন। স্থানীয় শিল্পীদের মতে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই খাতের কর ও শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
শুল্ক নির্ধারণে বৈষম্য অভিযোগ
স্থানীয় উৎপাদকদের মূল অভিযোগ হলো শুল্ক নির্ধারণ পদ্ধতির ওপর। তাঁদের দাবি, আমদানি করা বিদেশি প্রসাধনী পণ্যের ক্ষেত্রে কেবল মূল উপাদানের নেট ওজনে শুল্ক হিসাব করা হয়। কিন্তু দেশীয় পণ্যের বেলায় সম্পূর্ণ মোড়কজাত মূল্যে কর আরোপ করা হচ্ছে। এটি দেশী শিল্পকে বৈষম্যমূলক করে তুলছে বলে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে।
“এই বৈষম্য দূর না করা হলে দেশের নতুন শিল্প খাত বড় ধরনের সংকটে পড়বে। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং প্রায় ৭ হাজার কর্মীর কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়তে পারে।”
সংগঠনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আমদানি করা লিপস্টিকের ক্ষেত্রে কেবল তার ভেতরের উপাদানের মূল্য বিবেচনা করা হয়। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন খরচ সম্পূর্ণ মোড়কের দাম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাঁদের দাবি, এই বৈষম্যের কারণে দেশী পণ্য বাজারে স্থায়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমসের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী আমদানি করা লিপস্টিকের মূল্য হিসাবে ধরা হয় ৫২ টাকা ৯ পয়সা। আর স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি মানসম্মত লিপস্টিকের উৎপাদন খরচ হয় ৩৯০ টাকা ২০ পয়সা। যার ওপর আবার শুল্কের সাথে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।
তাঁদের মতে, মোড়কের দাম প্রায় সব সময় মূল উপাদানের চেয়ে বেশি হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো পণ্যের মূল উপাদানের মূল্য যদি ৪০ শতাংশ হয়, তাহলে মোড়কের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ। আমদানিকারকেরা এই মোড়কের ওপর শুল্ক ছাড় পেলেও স্থানীয় উৎপাদকদের সম্পূর্ণ বোঝা হচ্ছে।
