পৃথিবী এখনও মেসির হাতে আছে
প থ ব ট এখন ম স – ম্যাচের শুরুতে সন্দেহ ছিল অনেক কিছুর। সাম্প্রতিক ক্ষত থেকে তিনি কতটা স্বাস্থ্যসুস্থ হয়েছেন? সম্পূর্ণ খেলা করবেন তো? অবশ্য সেই সময়ে তাঁর আরও কম গতি থাকবে কি? আর খেললেও এই বয়সে তিনি কি পূর্বের শক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন? আর এখন নতুন করে সেই আশার সূত্র আবার জড়িয়েছে মেসির আবির্ভাব।
মেসি খেলার প্রথম মুহূর্তেই প্রমাণ করেছেন যে তাঁর বাকি দুটি প্রশ্ন এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। প্রায় চল্লিশ গজ দূরে গোল করতে সক্ষম হন তিনি বিশ্বকাপের পঞ্চম মিনিটে। কিন্তু অফসাইডে গোল বাতিল হয়ে যাওয়ার পর সেই সুন্দর ছোটো সামান্য ব্যবধান তাঁর প্রতিশ্রুতি আবার বৃদ্ধি করেছে।
যেন ভাগ্য বলছিল, ‘অপেক্ষা করো, আরও সুন্দর কিছু আসছে।’
১৭ মিনিটে তিনি সেই সুন্দর সময়টি অপেক্ষা করেননি। রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে কয়েক সেকেন্ড পর গোল করেন তিনি সেই রাতে যেন সময়ের গতি অব্যাহত থাকে। সেই শটে লুকা জিদান হাত দিয়েছিলেন কিন্তু তা থামিয়ে দিতে পারেননি। দৃশ্যটি যেন সম্পূর্ণ স্টেডিয়ামকে স্পর্শ করেছিল এক মুহূর্ত জন্য।
দ্বিতীয় গোল আসে ঘড়ির কাঁটা ৬০ ছুঁলে। জিদান আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট ঠেকিয়ে ভুল করেন। সেই ভুলের পর মেসি তুর্কি সুযোগে খেলেছেন যেন স্বপ্নে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চাচ্ছেন। এই রাতে তিনি গোল করেন অসাধারণ ভাবে যেন সময় নিজের স্বাক্ষর ছেড়ে দিয়েছে।
১৬ গোল নিয়ে ক্লোসারের রেকর্ড স্পর্শ করা হয়েছিল মেসির কাছে। এই গোল দ্বারা তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন দুর্দান্ত সংখ্যা নেমে দিয়েছেন। স্কালোনির দলের রক্ষণে বিশ্বাস আছে যে মেসিকে সম্পূর্ণ বহন করতে হবে না। তাই তিনি আরও মুক্ত হয়ে ছাড়েন।
৩-০ গোলে আলজেরিয়াকে হারানো বিশ্বকাপে তিনি কানসাস সিটিতে আবার জীবনের সেই শুরুতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আলবিসেলেস্তের আকাশি নীল-সাদা রঙে ভেসে যাওয়া রাতে স্টেডিয়ামটি মেসির অসাধারণতা দেখে সত্তর হাজার গলার মধ্যে ছিল একটি সময় যে কেবল মেসি হাঁটতে পারেন।
তিনটি কবিতার মধ্যে শুরু হয়েছিল মেসির শেষের কবিতা। তাঁর হ্যাটট্রিক, রেকর্ড, আর চোখে জল ছিল সেই বিশ্বকাপের স্মৃতির সাথে। এই রাতে মেসি পৃথিবী ছেড়ে দিয়েছেন না, কেবল তিনি আবার বহন করছেন এক অসাধারণ জয়ের কথা।
