নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধান জানতে হাইকোর্টে বাবার রিট
ন খ জ ম র জ শ – মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার মিরাজ শেখ (৩০) কে দুই মাসের বেশি সময় ধরে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি সেটা নিশ্চিত করতে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে রিট হয়েছে। রিটটি মিরাজের বাবা মো. মোস্তফা শেখ আজ হাইকোর্টে দায়ের করেন।
মিরাজ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। এ বিষয়ে প্রথম আলো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আমি নিজে দেখছি, কোস্টগার্ড আমার স্বামীকে নিয়া গ্যাছে। এহন তারা অস্বীকার করে।” এই কথাগুলো বলছিলেন মুক্তা খাতুন, জয়মনির ঠোটা এলাকার চায়ের দোকানের সামনে মিরাজকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
“আমি নিজে দেখছি, কোস্টগার্ড আমার স্বামীকে নিয়া গ্যাছে। এহন তারা অস্বীকার করে।”
১০ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে মাছ ধরে বাড়িতে এসে ঘুমান মিরাজ শেখ। সন্ধ্যার আগে অচেনা নম্বর থেকে কয়েকবার ফোন আসে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি জয়মনির ঠোটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে সাদাপোশাকে দুজন কর্মী ধরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে মুক্তা খাতুন ছুটে গিয়ে দেখেন, কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে তুলে মিরাজকে মোংলার দিকে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ মে মোংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মিরাজ শেখের সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া ২৩ এপ্রিল মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মুক্তা খাতুন। তার আগে স্বামীর সন্ধান ও ঘটনার তদন্ত চেয়ে ১৪ মে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়।
রিটে মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করতে এবং তাঁর অবস্থান ও পরিণতি প্রকাশ করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাতে আদালত নিশ্চিত হতে পারেন যে তাঁকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী মিরাজের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রিটটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম।
রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার রিটটি উপস্থাপন করা হবে।
