নাশতার টাকা বাঁচিয়ে ইন্টারনেট ডাটা কিনতেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ে কিন্তু অর্জন করেছেন মূল্যবান সাফল্য
ন শত র ট ক ব চ – পিরোজপুরের তরুণ ইমতিয়াজ আহমদ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় ফ্রিল্যান্সিং করার সম্ভাবনা ভাবেননি তিনি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ঘরে বসে শেখার সিদ্ধান্ত নেন যা আজ তাঁর আন্তর্জাতিক কাজে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে তিনি পিরোজপুরে অবস্থিত হয়ে মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় হল বন্ধ হয়ে গেলে বাড়িতে ফিরে আসেন ইমতিয়াজ। দীর্ঘ সময় ঘরে বসে তাঁর উপর প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা চালানো হয়। প্রথম সপ্তাহে একটি কাজ পেয়ে যান তিনি, যার জন্য ইউটিউব দেখে শেখার সময় সাহস ও উৎসাহ পেয়েছিলেন।
নিজের পরিশ্রমের ফলে ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করে ইমতিয়াজের জীবন। পরিবারে নাশতার টাকা বাঁচিয়ে ইন্টারনেট ডাটা কিনতেন তিনি। কিন্তু প্রথম কাজের সফলতার পর সেই টাকা আর কাজ করার বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকেননি। ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রথম দিকে অনেক রাত জেগে কাজ করেছি। আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পরপর অ্যালার্ম দিয়ে রাখতাম যাতে কোনো ক্লায়েন্টের বার্তার উত্তর দিতে দেরি না হয়। তখন কখনো ভাবিনি এই কাজই একদিন আমার ক্যারিয়ার হবে।’
পরিবারের সাথে স্বাধীন কাজে আত্মনিশ্চিত হন
নিজে কিছুটা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ইমতিয়াজ একা এগিয়ে যেতে চাননি। তাঁর ছোট ভাই অর্ণবকে ফ্রিল্যান্সিং শিখাতে শুরু করেন যার পর হিমাদ্রি দাস, রেসাদ, বিপ্লব ও মুন যোগ দেন। সেই পাঁচ তরুণের দল বর্তমানে দ্বিগুণ হয়েছে। অর্ণব বলেন, ‘ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের হাতেখড়ি। শুরুতে তিনি শুধু কাজই শিখাননি, শেখার সময় সাহস ও উৎসাহও দিয়েছেন। এখন নিজে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে স্বাধীনভাবে কাজ করছি।’
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই মূলত কাজ করেন ইমতিয়াজ। বর্তমানে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, বিদেশি ক্লায়েন্টরা সব সময় শেখার সুযোগ দিয়েছেন, কখনো নিরুৎসাহিত করেননি।
ইমতিয়াজের বাবা আবদুর রকিব বলেন, ‘শুরুর দিকে ও (ইমতিয়াজ) কী কাজ করে, তা ঠিক বুঝতাম না। এখন ছেলের সাফল্যে খুব ভালো লাগে।’ মফসল শহরে বসে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও ভালো ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইমতি�
