দ্রুতগতির মাকড়সার খোঁজ
দ র তগত র ম কড়স র – পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত দৌড়ের রেকর্ড গড়েছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের এক বিশেষ প্রজাতির হান্টসম্যান মাকড়সা। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৩.৫৯ মিটারের মতো উচ্চ গতিতে ছুটে চলতে সক্ষম, যে গতি অন্য সব মাকড়সা প্রজাতিকে ছাড়িয়ে দিয়েছে। আসলে এটি ছোট বনের শিকারি হিসেবে পরিচিত, যদি এটি মানুষের আকারে বড় হত, তাহলে শহরের রাস্তায় চলমান যে কোন গাড়িকে অতিক্রম করতে পারত।
গতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো
সাধারণত ধরে নেওয়া হত যে ছুটে চলার জন্য প্রাণীর শরীর হালকা এবং পা চিকন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণার মাধ্যমে এ ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে মাকড়সার গতিশীলতা তাদের শরীরের ভর ও পা আকারের উপর নির্ভর করে। ভারী শরীর এবং লম্বা, শক্তিশালী পা তাদের অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
বিজ্ঞানীরা মাকড়সার দৌড় করার প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করেছেন যে প্রতিটি পদক্ষেপে এদের চারপাশের বাধা বা দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়া এড়ানোর জন্য তাদের স্নায়ুতন্ত্র অবিশ্বাস্য গতিতে কাজ করে। এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব কমপারেটিভ ফিজিওলজি নামে একটি পত্রিকায়।
আরেকটি আবিষ্কার হলো যে তীব্রগতির মাকড়সাগুলো সাধারণ জাল বোনার মাকড়সার মতো ধীর গতিতে দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করে না। তাদের চোখে বিশেষ ধরনের র্যাপিড রেসপন্স ফটোরিসেপ্টর অবিশ্বাস্য গতিতে পরিবর্তন ঘটানোর জন্য রয়েছে। এগুলো স্থানিক পরিবর্তন চেয়ে হঠাৎ ঘটে যাওয়া নড়াচড়া বেশি গুরুত্ব দেয়।
তাদের চোখ মূলত হাইস্পিড ক্যামেরার মতো কাজ করে, যা গতি ব্যাহত না করে শিকার ধরতে বা পথ পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। এ আবিষ্কার আধুনিক রোবোটিক ইঞ্জিনিয়ারদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। যদি একটি যন্ত্র ভারী শরীর এবং লম্বা পায়ে গঠিত হত, তাহলে সেটি অত্যন্ত চটপটে ও গতিশীল হতে পারত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
