দুই বন্ধুর একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একই সঙ্গে গেল প্রাণ, পাশাপাশি দাফন
দ ই বন ধ র একসঙ – ঈদের আনন্দ শেষে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসলে নেমে ডুবে মারা গেছে দুই ছেলে কিশোর বন্ধু অহিদ ইসলাম ও মাসুদ রানা। ঘটনাটি ঘটে আজ শুক্রবার দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কায়িশাবাড়ি এলাকায়।
অহিদ ইসলাম ঢাকায় নির্মাণশ্রমিকের কাজে থাকত মা-বাবার সঙ্গে। যেখানে তার বাবা সাঁতার করতেন গ্রামে যাওয়ার জন্য। মাসুদ রানার পরিবার অবশ্য ঢাকায় ছিল না, তিনি অহিদের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে একই গ্রামে বড় হয়েছিলেন। গত এক বছর আগে অহিদ দরিদ্র পরিবারের জন্য ঢাকায় যায়। যেখানে সে ঈদের দুই দিন আগে গ্রামে ফিরে আসে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটার জন্য।
আজ শুক্রবার সকালে দুই বন্ধু অন্য ছেলেদের সঙ্গে তিন কিলোমিটার দূরে কাশিয়াবাড়ি এলাকায় নদীতে গোসলে নামে। গোসলের এক পর্যায়ে উভয়ে পানিতে ডুবে যায়। অহিদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। মাসুদকে স্থানীয় মানুষ উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই ছেলে সাঁতার জানত না।
“সবই আল্লাহর ইচ্ছে। অহিদ-মাসুদ একসঙ্গে ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছিল, একসঙ্গে মারা গেল আর একসঙ্গে কবরে দাফন করা হয়েছে। জীবনে-মরণে তারা দুজন পাশাপাশি থাকল।” – প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, মৃত লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাগরিব বাদ জানাজা শেষে খিয়ারডাঙ্গা কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।
“ছেলে দুটি দরিদ্র পরিবারের। অভাবের কারণে ঢাকায় কাজ করত। ঈদে গ্রামে আসে তাদের এমন মৃত্যু কাম্য নয়।” – স্থানীয় ইউপি সদস্য মজুমদার আলী
ঈদের ছুটিতে ফিরেছিল দুই কিশোর বন্ধু, কিন্তু আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই শোকে স্তব্ধ হয়ে এসেছে পুরো এলাকার মানুষ। তারাগঞ্জ উপজেলার কায়িশাবাড়ি এলাকায় দুই ছেলের এই একসঙ্গে মৃত্যু সবার জন্ম দেয় একটি শোকের ছায়া।
