এসপি-র নির্দেশে দুই আসামিকে ‘মাইনাস’ করার কথা ছিল: সাক্ষী
Banglaprabah.com – দ ই আস ম ক ম ইন – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সামনে মঙ্গলবার জবানবন্দিতে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ‘মাইনাস’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
জবানবন্দির মূল বিষয়বস্তু
জবানবন্দিতে রাজু আহম্মেদ উল্লেখ করেন, আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন এসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে এসপি এহসানউল্লাহ বলেছিলেন, ‘ঢাকায় দুজন আসামি ধরা পড়েছে। তাদের নিয়ে অভিযানে যেতে হবে। অভিযানে গোলাগুলি হতে পারে এবং আসামি দুজনকে মাইনাস করা লাগতে পারে।’ এই মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন।
মোস্তাফিজ, ঢাকায় দুজন আসামি ধরা পড়েছে। তাদের নিয়ে অভিযানে যেতে হবে। অভিযানে গোলাগুলি হতে পারে এবং আসামি দুজনকে মাইনাস করা লাগতে পারে।
মামলার পটভূমি
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীতাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়। এই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে।
মামলার চার আসামির মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
ঘটনার বিবরণ
জবানবন্দিতে রাজু আহম্মেদ বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ও তিনি আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে যান। ওসির কক্ষে তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহকে বসে থাকতে দেখেন। তখন এহসানউল্লাহ মোস্তাফিজকে দুই আসামিকে মাইনাস করার কথা বলেন।
এসআই মোস্তাফিজুর এ কাজ করতে অস্বীকার করেন। এতে তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহ সাক্ষী রাজুকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি পারবা না?’ এর জবাবে তিনি বলেন, ‘স্যার আমি নতুন মানুষ।’ তখন এহসানউল্লাহ বলেন, ‘বেটা মফিজের বাচ্চা মফিজ, হাঁটুর নিচে বুদ্ধি তোমার। তোমরা কীভাবে চাকরি কর আমি দেখে নিব।’ পরদিন সকালে তিনি শুনতে পান, উজিরপুর থানা থেকে দুজন পুলিশ সদস্যকে এনে দুই আসামিকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে।
আমরা রাজি না হলে পাশের থানা থেকে পুলিশ আনিয়ে ক্রসফায়ার দেন এসপি।
অন্যতম সাক্ষীর জবানবন্দি
এই মামলায় ৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন পরিদর্শক মনোরঞ্জন মিস্ত্রি। তিনি ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত আগৈলঝাড়া থানার এসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া কোর্ট ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জবানবন্দিতে মনোরঞ্জন মিস্ত্রি বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়া থানায় এসে ওসির কক্ষে বসেন। পরে তাঁকে ডাকা হলে তিনি যান। এসপি তাঁকে বলেন, ‘এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর একটি কাজ করে দিতে হবে। রাতে অভিযান আছে, ক্রসফায়ার দিতে হবে।’ তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে এসপি তাঁকে বলেন, ‘শালা তুমি এমপি সাহেবের কথা শুনবা না, আর এখানে চাকরি করবা। দেখি তুমি কীভাবে প্রমোশন নেও, তোমার এসিআর শেষ করে দিব।’

