দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ ভিসা ও জ্বালানি নিরাপত্তার তাগিদ
Banglaprabah.com – দক ষ ণ ক র য় র – বাংলাদেশে দক ষ ণ ক র য় র বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট, স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন। তিনি বলেন, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ও বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ পর্যালোচনা: ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনা’।
সেপার সুফলে প্রয়োজন কার্যকর বিনিয়োগ পরিবেশ
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া গত ৪ আগস্ট সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা সেপা স্বাক্ষর করেছে। প্রায় এক বছর ধরে পাঁচ দফা আনুষ্ঠানিক আলোচনা এবং আরও কয়েকটি বৈঠকের পর চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারে এটি একটি কাঠামো তৈরি করলেও বাস্তব সুফল নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার পরিবেশ কতটা সহজ হয় তার ওপর।
রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সমতাভিত্তিক সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ভিসা ও কর্মানুমতির প্রক্রিয়া সহজ করা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বন্দর ও ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ গড়ে তোলা এবং কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ, সহজ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থা, ডিজিটাল সংযোগ এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে কার্যকর উদ্যোগ দরকার।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়। নথিপত্রের জটিলতা বা অনুমোদনে বিলম্ব হলে প্রকল্প শুরু পিছিয়ে যেতে পারে। আবার পণ্য খালাস, ব্যাংকিং ও অন্যান্য সেবায় সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনাও কঠিন হয়। তাই এনবিআর, বন্দর ও ব্যাংকসেবার ডিজিটাল সমন্বয় বিনিয়োগ সহজীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জ্বালানি নিরাপত্তা শিল্পের আস্থার ভিত্তি
শিল্প উৎপাদনের ধারাবাহিকতার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ অপরিহার্য। উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানি প্রতিশ্রুতি, সরবরাহসূচি ও ব্যয়ে প্রভাব পড়ে। এ কারণে দক ষ ণ ক র য় র বিনিয়োগ আকর্ষণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিম জি-জুন বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি শিল্পোন্নয়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার ধারাবাহিকতার আশা প্রকাশ করেন। যৌথ উদ্যোগ বাড়লে উৎপাদন দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের সক্ষমতা ও মাননিয়ন্ত্রণে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগও বাড়তে পারে।
বাজেট, কর ও শুল্কনীতি নিয়ে আলোচনা
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন কেবিসিসিআই সভাপতি শাহাব উদ্দিন খান। তিনি বলেন, বাজেটের নীতি এবং কর ও শুল্কের পরিবর্তন ব্যবসার ব্যয় ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে সরাসরি প্রভাবিত করে। যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণের শুল্ক কাঠামো কোনো খাতের বিনিয়োগযোগ্যতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি দুই দেশের প্রযুক্তি বিনিময় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চেম্বারের অঙ্গীকারের কথাও বলেন। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারে এবং অংশীদারত্বের সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারে।
অর্থ বিলে শুল্ক ও করের পরিবর্তন নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া। সেমিনারে বাজেট-পরবর্তী কর ও শুল্ক কাঠামো ব্যবসায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান। উপস্থিত ছিলেন কেবিসিসিআইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দো-কি পার্ক। উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং কোরীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নেন।
সেপার সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে নীতিগত প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সেবা উন্নয়নও জরুরি। অনুমোদনপ্রক্রিয়া, কর-শুল্কের পূর্বানুমেয়তা, দক্ষ লজিস্টিকস এবং জ্বালানি সরবরাহে উন্নতি হলে বাংলাদেশে দক ষ ণ ক র য় র বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
প্রশ্নোত্তর
দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়াতে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
সহজ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ, কর-শুল্কনীতির স্থিরতা, ডিজিটাল সেবা সমন্বয় এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ।
সেপা কীভাবে দুই দেশের ব্যবসায় সহায়তা করতে পারে?
সেপা বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি কাঠামো তৈরি করেছে। এর কার্যকর সুফল পেতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও সহজ ব্যবসায়িক সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দক ষ ণ ক র য় র?
দক ষ ণ ক র য় র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দক ষ ণ ক র য় র matter?
দক ষ ণ ক র য় র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

