Uncategorized

থম্পসনের ডায়েরি: পর্ব–৩

থম পসন র ড য় র - কেএফসির ইন্সপেকশন শেষে আমরা রিপোর্ট নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে আলোচনা করলাম। গতবারের সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে কি না, সেটা যাচাই-বাছাই করে নিল

Desk Uncategorized
Published July 30, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Linda Hernandez - banglaprabah.com

থম পসন র ড য় র: নতুন অফিস ও ট্রেনিংয়ের গল্প

Banglaprabah.com – থম পসন র ড য় র – কেএফসির ইন্সপেকশন শেষে আমরা রিপোর্ট নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে আলোচনা করলাম। গতবারের সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে কি না, সেটা যাচাই-বাছাই করে নিল অমুদা। দুজনের কথোপকথনের সময় লক্ষ করলাম ম্যানেজার বেশ অমায়িক প্রকৃতির মানুষ। মনোযোগ সহকারে সবকিছু শুনছেন এবং এবার খুঁজে পাওয়া সমস্যাগুলো পরবর্তী সময়ে যাতে আর না হয়, তা নিশ্চিত করবেন বলে আশ্বস্ত করলেন। মোটামুটি দুই ঘণ্টার মধ্যেই কাজ সেরে আমরা অফিসে ফেরত এলাম।

এরপর ম্যানেজার আমাদের কাছে জানতে চাইলেন প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল। কথাবার্তা চলছিল। একপর্যায়ে আমাদের জানানো হলো মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমরা এখান থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার পথের দূরত্বের আরেকটি শহরে ট্রেনিংয়ের কাজে যাব—দ্য পাস (ইংরেজিতে এর উচ্চারণ দ্য পা)। ওখানকার বর্তমানে দায়িত্বরত অফিসার আমাদের প্রশিক্ষণের ভার নেবেন। এক সপ্তাহ ট্রেনিং শেষে ফিরে আসব থম্পসনে। মনে মনে কিছুটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছে! প্রথমবার শহরের বাইরে কোথাও যাচ্ছি!

অফিসের নকশা ও বাসার ইতিহাস

যেহেতু এখনো আমাদের অফিস থেকে গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, তাই অমুদাই আমাদের ওখানে পৌঁছে দিতে আসবে। ফিরতি পথে দ্য পা-এর অফিসার নিয়ে আসবেন। প্রতিদিনের পরিদর্শনই যেন একেকটা গল্প হয়ে যাবে। কারণ, প্রতিটা জায়গারই নিজস্ব গল্প থাকে। এর আবেগ, গন্ধ বা স্বাদ অন্যটা থেকে সব আঙ্গিকেই আলাদা। এই অফিসের ভেতরকার নকশাটা একটু অদ্ভুতুড়ে। আমাদের মূল অফিসকক্ষে ওয়াশরুম বা লাঞ্চরুম নেই। ওই দ্বিতল ভবনের নিচতলার পাশাপাশি দুটি ঘরে দুটি সরকারি অফিস। একটি আমাদের, আরেকটি ট্রান্সপোর্ট অথরিটির। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওই অফিসরুমেই ওয়াশরুম, লাঞ্চরুম আছে।

ওপরের তলার অফিসে বিমান বিভাগের কাজকর্ম হয়ে থাকে। তবে যতটা বুঝতে পারছি, মূলত অফিশিয়াল কিছু কাজ করতে লোকজন আসা-যাওয়া করেন। অফিসের কর্মকর্তা ছাড়া কোনো সাধারণ মানুষ আপাতত চোখে পড়েনি। কাজ শেষে বাসায় ফিরে পরের দিনের রান্নাবান্নার কাজ করো। কী রাঁধব এটা আগেই ঠিক করে না রাখলে আবার সমস্যা। মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থাও আগের দিনই করে রাখা চাই। যে বিল্ডিংয়ে আমি বর্তমানে থাকছি, সে জায়গারও পাশাপাশি একটা গৌরবোজ্জ্বল এবং কালো অধ্যায় আছে। ডরমিটরির পাশাপাশি নর্থ ও সাউথ টাওয়ার নামে স্থানীয় লোকে জানে।

নর্থ টাওয়ারের গড়পত্তন হয়েছিল থম্পসন শহরের জৌলুশ থাকাকালীন। এলাকার সব নামীদামি ব্যক্তিদের বসবাস ছিল। মূল প্রবেশপথ থেকে ক্রমে ভেতরের দিকে যেতে থাকলে দেখা মিলত সুইমিংপুলের! ভবনের নকশা, গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা, নর্থ টাওয়ারের কোল ঘেঁষে সাউথ টাওয়ার পর্যন্ত কচিকাঁচাদের খেলার জায়গা, টেনিস কোর্ট, ভলিবল খেলার কোর্ট, পাশেই মনোরম পরিবেশে বসার জন্য বেঞ্চ রাখা, কাছাকাছি দূরত্বে গার্বেজ বিন—সবই নিপুণ প্রকৌশলে করা হয়েছিল, যা কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল সব বড়দের ছেলেমেয়েদের কথা মাথায় রেখে। দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com।

ভাবছিলাম কত স্বপ্ন ছিল সবার। কিন্তু এরপর শুরু হলো মন্দা। খনির আবিষ্কারের পর কাজে আসা প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শহরছাড়া হতে শুরু করলেন। এর প্রভাব পড়ল শহরজুড়ে। রাহুগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় যেমন চাঁদের রুপালি আলো হারিয়ে গিয়ে কালচে তামাটে বর্ণের হয়ে যায়, তেমনি এই শহরের সোনালি দিনগুলো ক্রমে ঘোর অমানিশা রূপ নিল। পুরো থম্পসনজুড়ে মাদকদ্রব্যের পাচারকারীদের আধিপত্য বাড়াতে লাগল। নর্থ আর সাউথ টাওয়ারে আগমন ঘটল তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের।

যে ডরমিটরির বারান্দায় মানুষজনের বাসা একসময় শোভা বর্ধন করত নানা রকমের অর্কিডগাছ, সেই একই জায়গায় হরেক রকমের গাঁজার সেবন চলতে লাগল হরদম। আরও অনেক রোমাঞ্চকর গল্প শুনেছিলাম সাদিকুল ভাইয়ের কাছে। বর্তমানে আমি আরও দুজনের সঙ্গে ঘর ভাগাভাগি করে রইছি। হারহামেশা ব্যাচেলর মানুষজন যেভাবে থাকেন। সাদিকুল ভাই থম্পসনের অনেক পুরোনো মানুষ। আর আনু ভাইয়ের এই শহরে থাকার অভিজ্ঞতা বছরখানেকের। দুজনেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন। ওনাদের দুজনকে একসঙ্গে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। শনি, রোববারে থাকলেও আনু ভাইয়ের কাজ থাকে ভোরবেলা থেকেই। মাঝেমধ্যে সন্ধ্যায় দুজনকে একসঙ্গে পাওয়া গেলেও যেতে পারে। তখন থম্পসনের রোমহর্ষ সব গল্পের হাট খুলে বসেন সাদিকুল ভাই। আমি আর আনু ভাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি।

Leave a Comment