খুলনায় প্রকাশ্যে হত্যা, সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেয়েছে
ত র প রক শ য খ – খুলনা শহরের সেন্ট্রাল এলাকায় ডাকবাংলো মোড়ে গত চার মার্চ রূপসা উপজেলার শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে মনে করা হলেও তাঁকে দায়ী করা হচ্ছে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য। তিনি আড়াই মাস আগে নিহত যুবকের পরিবারের সদস্যদের গুলি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
খুনের হামলা বেপরোয়া হয়েছে বলে অভিযোগ
খুলনা মহানগর পুলিশের হিসাবে, ২০২১ সালে মহানগরে খুন হয় ১৫টি, ২০২২ সালে ১৯টি হয়েছে। তবে খুনের ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় সেই সংখ্যা দুই মাস পর গত ২৯ মে খুলনা জেলায় ২০টি মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিবেশী এলাকায় তালিকা রাখে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর নাম। অবিলম্বে তাদের কাজ বন্ধ করার দরকার বলে মহানগর বিএনপি সভাপতি এস এম শফিকুল আলম (মনা) প্রথম আলোকে জানান যে মানুষের নিরাপত্তা নেই।
“যেকোনো সময় যেকোনো ব্যক্তির ওপর হামলা হচ্ছে, গুলির ঘটনা ঘটছে, চাঁদাবাজি হচ্ছে। এগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।”
বিএনপির নেতার অভিযোগ, খুলনায় কিশোর গ্যাং ও মাদক সিন্ডিকেট তৎপর হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কমিটি সভায় তারা বারবার তা বলেছেন। কিন্তু পুলিশ ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারছে না। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ ও এপ্রিলে খুলনা মহানগরে মোট নোটিশ সংখ্যা বেড়েছে। মার্চে ১০৫টি মামলা ও এপ্রিলে ১১৪টি হয়েছে।
ব্যবস্থাপকের দাবি স্থানীয় মামলা নিষেধ করেছে
খুন ঘটানোর ঘটনাস্থলে গেলে দোকানের ব্যবস্থাপক দীপঙ্কর বাহাদুর প্রথমে জানান যে তিনি কিছুই দেখেননি। অথচ সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি বলতেই তিনি সংক্ষেপে জানান, “এ বিষয়ে কথা বলা নিষেধ।”
খুলনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে প্রথম আলোর। তাঁরা পুরোনো মামলাগুলোর বিষয়ে কথা বলতেও ভয় পান। তিন মাস আগে খুন ঘটানো হয়েছে মাসুম বিল্লাহ হত্যার ঘটনার সাক্ষী হয়ে জুতার দোকানে গেলে তিন কর্মীকে পাওয়া গেছে। এটি প্রকাশ্যে খুন করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও অদক্ষতার কারণে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়েছে।
