চামড়াশিল্পের সমস্যার প্রতি অনুরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানুষ
ট য ন র শ ল প – প্রতিবছর চামড়া বিক্রি হওয়ার দর কমে গেলে দেশে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হচ্ছে এবং মাটিতে পুঁতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে যে চিত্র দেখা গেল, সেটা খুব দুঃখজনক ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতবারের তুলনায় কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়ার বর্গফুটের দাম ২ টাকা বেশি নির্ধারণ করেছিল, কিন্তু বাস্তবে প্রতি পিস চামড়া গতবারের তুলনায় ১৫০-২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে।
জীবিকা নির্ভর শিল্প সম্পৃক্ত হয়েছে
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে প্রায় সবগুলো খাতই দেশীয় কাঁচামালের উপর ভরসা রাখে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা যায় না। আশির দশকে এই খাতটি চামড়া প্রস্তুতকারক ও বিবিধ পোশাক শিল্পের চেয়ে উৎপাদন গুণ বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হত।
আমরা মনে করি, এখানে সরকারের দায় আছে একইভাবে উদ্যোক্তা, ট্যানারিমালিক, চামড়া প্রস্তুতকারক, চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারীদেরও দায় রয়েছে।
অপেক্ষাকৃত কম পশু কোরবানি হবে বলে মনে করে সরকার এবার ৭৫-৮০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশে চামড়া বিক্রি করে বেশি বছর মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের সারা বছরের ব্যয়ের অংশ আসে। চামড়ার বাজার পড়ে গেলে এই জনগোষ্ঠী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাজার বিস্তারের জন্য নতুন পদক্ষেপ প্রয়োজন
বিশ্বে চামড়া বাজারের মূল্য ৩০০-৪০০ বিলিয়ন ডলার হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এখনও ১-১.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে আমরা চামড়া বা চামড়াজাত পণ্যের বাজার তৈরি করতে পারিনি।
২০১৭ সালে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের বিসিক চামড়াশিল্প নগরীতে ট্যানারি স্থানান্তরে হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা এখনো পূরণ হয়নি। ৯ বছর পরও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার কার্যকর হয়নি। ফলে ট্যানারিগুলো এলডব্লিউজির আন্তর্জাতিক সনদ পাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বড় বাজারগুলোয় আমাদের চামড়াজাত পণ্যের প্রবেশ সম্ভব নয়। সময় এসেছে আমাদের ট্যানারিশিল্পকে নতুন করে গড়ে তোলার। আমাদের অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানিমুখী বাজারের জন্য আলাদা ট্যানারি ও শিল্পকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
