জামালপুরের দুই উপজেলার ৫০টি গ্রামে বিদ্যুৎহীনতা দুর্ভোগ সৃষ্টি
ঝড় ২৮ ঘণ ট ব দ য – কালবৈশাখী ঝড়ের প্রারম্ভিক আঘাতে জামালপুরের দুটি উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সড়কের পাশে অসংখ্য গাছ ও ডালপালা ঝড়ে ভেঙে পড়েছে। এতে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার ফলে জামালপুর জেলার অংশটুকু বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার বেলা ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ফিরে আসেনি। এতে গ্রাহকদের পানির সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাহত হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজ করতে বাধ্য হওয়ার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
গতকাল সকাল ৭টা থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে জামালপুরে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। সেই সময় মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার ওপর দিয়ে তীব্র ঝড় বয়ে যায়। এতে গাছপালার অনেকগুলি ভেঙে পড়েছে যার কারণে বিদ্যুৎ লাইনে মারামারি ঘটে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে যখন বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় অনেক বাসায় পানি ওঠানো যাচ্ছে না।
বাসিন্দাদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে
লালডোবা গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে নেই। কখন ফিরে আসবে তা জানি না। মোবাইল চার্জ দিতে পারছি না। লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছি না। ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
পূর্ব গামারিয়া থেকে মাইনুল ইসলাম জানান, ‘গতকাল সকালে বিদ্যুৎ চলে গেছে। এখন পর্যন্ত ফিরে আসে নাই। মাঝেমাঝে কিছু বৃষ্টি হলেই কারেন্ট চলে যায়। আজকেও সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। কারেন্ট আসবে কি না তার নিশ্চয়তা নেই।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে যে ঝড়ে সাতটি বিদ্যুত খুঁটি ভেঙে গেছে। গাছের ডাল পড়েছে প্রায় ৭০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। সেই সাথে অন্তত ১৩০টি গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এতে কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান যে ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও তার মেরামত চলছে। তবে জনবলের অভাবে কয়েকটি এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা যায়নি।
সাহিদুল ইসলাম, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) বলেন, ‘ইসলামপুর উপজেলার কাজ প্রায় শেষের দিকে। বিকেলের মধ্যে আশা করছি পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে। কিন্তু মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুতের অনেক খুঁটি ভেঙে গেছে। সেখানে কাজ চলছে। কিন্তু পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনার জন্য আরও সময় লাগতে পারে।’
