জীবনানন্দ কি দুই পা ভাঁজ করে বসতেন… সিনেমার পরীক্ষা
জ বন নন দ ক দ ই – ঈদুল আজহার পরে প্রকাশিত হয়েছে ‘বনলতা সেন’ ছবি। কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন এবং সাহিত্যিক আবহকে ভিত্তি করে নির্মিত ছবিটি বর্তমানে দেশের প্রেক্ষাগৃহে চলছে। জীবনানন্দ চরিত্রে খায়রুল বাসার অভিনয় করেছেন, বনলতা সেন চরিত্রে মাসুমা রহমান নাবিলার অভিনয় রয়েছে।
ছবির চরিত্রগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য দুজন অভিনেতার পক্ষে কঠিন শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। শুটিং শেষ হওয়ার দুই বছর পর তাঁদের সেই পরীক্ষার স্মৃতি বজায় রেখে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিনেতার স্বাভাবিক চরিত্রে পরিণতির জন্য আঘাত ও দুর্দান্ত বাস্তবতা
জীবনানন্দ হিসেবে চরিত্র ধারণ করার জন্য খায়রুল বাসারকে দীর্ঘ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তাঁকে টানা ৩২ দিন মুখে লেবু রাখতে হয়েছিল, যাতে চরিত্রটির বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। শুটিং পর্বে তাঁর মুখের ভেতরের অংশ ক্ষত হওয়ায় খাওয়াদাওয়া করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু চরিত্রের জন্য সেই কষ্ট সহ্য করে তুলেছিলেন অভিনেতা।
“রাত প্রায় চারটা। চারপাশে সুনসান নিরবতা। একটি দৃশ্যে মহিন (সোহেল মণ্ডল) ঘোড়ায়, আর আমি হেঁটে যাচ্ছি। পায়ে শুধু জুতা আর পরনে ধুতি। মনে হচ্ছিল হাড় পর্যন্ত বরফ হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু তখন নিজেকে জীবনানন্দ দাশ হিসেবে ভাবতে পারছিলাম। সেই অনুভূতিই আমাকে শক্তি দিয়েছে।”
খায়রুল বাসার বলেন, “বনলতা সেন ছবির প্রায় প্রতিটি দৃশ্যই কমবেশি কঠিন ছিল। কারণ, তিনি শুধু অভিনয় করেননি, কবির ভেতরের মানুষটিকেও ধারণ করতে চেষ্টা করেছেন।”
এক শট নিখুঁত করার জন্য বিশ্বাসযোগ্য সংগ্রাম
ছবির একটি দৃশ্যে জীবনানন্দ দাশ এবং কবি বুদ্ধদেব বসুর কথোপকথন দেখানো হয়েছে। বাসারের মতে, তিনি ভাবছিলেন, জীবনানন্দ কি দুই পা ভাঁজ করে বসতেন? নাকি অন্যভাবে? কীভাবে বসলে চরিত্রটি স্বাভাবিক লাগবে? এমন ছোট ছোট বিষয়েও তাঁকে ভাবতে হয়েছিল।
নাবিলার জন্য সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল একটি দৃশ্যের শুটিং। দৃশ্যটিতে মহিনের পা ধুয়ে দিচ্ছেন বনলতা সেন। দেখতে সাধারণ মনে হলেও ওই দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে অনেকবার একই কাজ করতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। তখন তিনি বলেন, “মহড়া করি না কেন কিছু ক্ষত হয়েছিল। ক্যামেরার সামনে গিয়ে সেই আবেগ, শরীরী ভাষা আর চরিত্রের ডেরপথ ঠিকভাবে তুলে ধরা সহজ ছিল না।”
শুটিং সময় বনলতা সেন ছবির প্রতিটি দৃশ্যই তাঁর কাছে ফাইনাল পরীক্ষার মতো ছিল
