সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে
জ ম ন ম ক ত প – নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পূর্ব মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এক বছরের বেশি সময় জেল খাওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার রাতে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়, যার পর সাড়ে ১২টায় তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবনে ফিরেছেন। এ সময় তাঁর বাড়িতে স্বজন ও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল।
জামিনের পর স্বাগত জানানো হয়েছে
তাঁর বাসায় পৌঁছানোর পর সেলিনা হায়াৎ আইভী দেশবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের জানান তিনি, “আমি বিচার বিভাগের প্রতি অসম্ভব কৃতজ্ঞ এবং সরকারের প্রতিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আশা করছি, সকল মানুষের জন্য মানবিক একটি সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো অনেক মায়েরা আছেন, তাঁরা নিরপরাধ। আশা করছি সরকার তাঁদের প্রতি সদয় হবে।”
প্রারম্ভিক গ্রেপ্তার ও মামলাগুলি
সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পুলিশ রাতে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে যায় ২০২৫ সালের ৯ মে। তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ে তিনটি হত্যা মামলা এবং দুইটি হত্যাচেষ্টা মামলা সহ মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার করে। কিছু মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন বলে জানান একটি অংশে তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই হত্যা মামলায় তাঁকে হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়, যেটি তাঁর মুক্তির পথ খুলে দেয়।
আইভী নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত। তারপর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিন টানা নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। ২০১১ সালে তিনি শামীম ওসমানকে, যিনি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা, এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। তিনি সব সময় নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রকাশ করেন।
“আমি চাই, সকলকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো অনেক মায়েরা আছেন, তাঁরা নিরপরাধ। আশা করছি, সরকার তাঁদের প্রতিও সদয় হবে।”
