জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ থেকে কমছে পুলিশ সংখ্যা
জ ত স ঘ শ ন ত – জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের অংশগ্রহণ কমে আসছে। এর জন্য বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পুলিশের কাউন্সেলর পদ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও সাত বছরে কেউ সেই পদে নিয়োগ পাওয়া হয়নি। বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছেন, কাউন্সেলর না থাকায় মিশনে পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
বর্তমানে কাজ করছে পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৩৫ জন। এর আগে মিশনে কর্মরত পুলিশের সংখ্যা কখনোই ২৩০ এর নিচে নামিয়ে আসেনি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ থেকে এই মিশনে অংশ গ্রহণ করছেন। ৩৭ বছরে মোট ২১ হাজার ৮১৬ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা গেছে, মিশনে আরও অংশগ্রহণ করতে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্সেলর পদটি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কেউ নিয়োগ পেয়েছেন না।
পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণ কমেছে কারণে নির্দিষ্ট সময়ে আহত ও নিহত কর্মকর্তার সংখ্যা
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্থানে আহত ও নিহত হন। নিহত হলে তাদের পরিবারের সদস্যদের ৬০–৭০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। আহত হলেও ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়া যায়।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশ ইতিমধ্যে ৪ হাজার ১৪৮ জন সদস্য শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করছেন। সংখ্যার হিসাবে রোয়ান্ডা, নেপাল ও ভারতের পর বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৮৮ জন সেনাসদস্য।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ থেকে কাজ করছেন ২৪ জন সদস্য। তারা ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) ও ইনডিভিজ্যুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) হিসেবে কাজ করেন। কর্মকর্তারা বলেন, মিশনে বাহিনীর সংখ্যা কমেছে কারণ জাতিসংঘের তহবিলসংকট। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা গেছে, হাইতিতে মিশনে নতুন কন্টিনজেন্ট প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য ৫২৫ জন সদস্যকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনে সংশ্লিষ্ট দেশের পুলিশ কর্মকর্তারা ডিপার্টমেন্ট অব পিচ অপারেশন সঙ্গে সমন্বয় করে কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করেন। কিন্তু কাউন্সেলর না থাকায় অংশগ্রহণ কমে আসছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মিশনে আরও অংশগ্রহণ করতে পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
