চীনে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ: নিহত ৯০ জন, আহত ২০১ জন
চ ন কয়ল খন ত ব স – চীনে কয়লাখনি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন ৯০ জন শ্রমিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এটিকে দেড় দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। স্থানীয় সময় আজ শনিবার বিকেলে বিস্ফোরণের স্থলে আহতদের উদ্ধার কাজ অব্যাহত ছিল। এই সংকট ঘটেছে উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি কয়লাখনিতে যা গুরুতর ক্ষতির জন্য বিশেষ ভাবে বিশ্লেষণের কথা বলেছে।
বিস্ফোরণের প্রাথমিক বিবরণ ও স্থানীয় কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
সিসিটিভি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় খনিতে প্রায় ২৫০ জন শ্রমিক বর্তমান ছিল। তাদের মধ্যে আজ সকাল পর্যন্ত অন্তত ২০১ জন হতাহতকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১২৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অব্যাহত কাজ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে সমস্ত শ্রমিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে একটি ‘সর্বাত্মক অভিযান’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের জন্য গুরুত্ব দিয়েছেন। কয়লাখনির মধ্যে ধোঁয়া ও বিপদগ্রস্ত গ্যাসের কারণে প্রাণ হারানো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বিশ্লেষণের জন্য আরও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হচ্ছে।
বিস্ফোরণের কারণ খুঁজতে চলছে
বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে পূর্বের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে খনিতে কার্বন মনোক্সাইড এবং সালফার গ্যাসের মাত্রা সীমার বাইরে ছিল। এ সম্পর্কে একটি সংবাদ মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে যে কিনইউয়ান কাউন্টির চাংশি শহরে লিউশেনইউ কয়লাখনি পরিচালনার প্রক্রিয়া এখনো তদন্তের কাছে রয়েছে।
খনির চালু করা হয়েছিল একটি ক্ষতিকারক শিল্প প্রক্রিয়ায় যেখানে শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল বা না তা সম্পর্কে আলোচনা চলছে। বিস্ফোরণ ঘটেছে কয়লাখনির ভেতর যা বিপদগ্রস্থ গ্যাস প্রসারিত হওয়ার কারণে ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আহতদের সংগ্রহ করার জন্য গুরুতর আহতদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল এবং আপাতত সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে।
“আমি ঘণ্টাখানেক সেখানে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলাম, তারপর চেতনা ফিরে পাই। পাশে থাকা লোকজনকে ডেকে তুলি এবং আমরা একসঙ্গে খনি থেকে বেরিয়ে আসি।”
ওয়াং ইয়ং কয়লাখনির শ্রমিক বলেন যে বিস্ফোরণের সময় তিনি ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখেছিলেন এবং সালফারের গন্ধ পেয়েছিলেন। তিনি বলেন যে নিজে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগে ধোঁয়ায় অনেককে শ্বাসরুদ্ধ করে দেখেছেন। এই অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সহায়তা করার সময় কয়লাখনি বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং প্রাণ হারানো হয়েছে।
প্রতিবেদন
