গতর খাইটা সংসার চালাই, কারও কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে
গতর খ ইট স স র চ – বাইশপুর এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন সুভাষ চন্দ্র বর্মণ (৪৫), যিনি চন্দ্রপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর পা দুটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চিকন এবং শরীরের দুর্বলতা অধিকাংশ সময় তাঁকে বাধা দেয়। কথা বলতে তাঁর স্পষ্টতা বেশি কম, কিছু কথা তিনি সুস্পষ্টভাবে বোঝায় এবং কিছু কথা বোঝা যায় না। এ জন্য তিনি প্রায় সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না, সে দিন বসে টুলে কিংবা জিরোতে কাজ করতে হয়। তাঁর আয়ের সাথে বেশিরভাগ সময় গতর খাইটা সংসার চালানোর অভিজ্ঞতা জড়িত।
সংসারের হাল ধরার প্রতিশ্রুতি
সুভাষের পিতা মৃত নকুল চন্দ্র বর্মণের ছেলে। তিনি পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় কিশোর বয়স থেকে সংসার চালানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রথমে তিনি চা বিক্রি করতেন, কিন্তু পরে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে শুরু করেন। প্রতিদিন তাঁর আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। মাসে তিনি প্রায় ২৪-২৫ দিন কাজ করেন এবং প্রতি মাসে আয় করেন ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়ে স্ত্রী, একটি সন্তান এবং পরিবারের সদস্যদের কাপড় চোপড়, ওষুধ ইত্যাদি খরচ করতে হয়। কখনও কখনও দোকান থেকে বাকিতে জিনিসপত্র কিনেন তিনি। তাঁর গতর খাইটা সংসার চালানো ব্যবস্থার মূল কারণ হলো পরিবারের অর্থনৈতিক প্রয়োজন।
গতর খাইটা সংসার চালানোর অর্থনৈতিক প্রভাব
গতর খাইটা সংসার চালানো সুভাষের জন্য একটি নিয়মিত কাজের আকার হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক সমস্যা সত্ত্বেও তিনি পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করছেন। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় তাঁর খাইতে পারা অসম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই কাজ থেকে আমি প্রতিদিন গতর খাইটা সংসার চালাই। কিছু মানুষ আমার কাছে হাসিঠাট্টা করে, কিন্তু আমার জন্য সেটা একটি বীরত্বের প্রমাণ।’
সমাজসেবা কর্মকর্তাদের মতে সুভাষের পরিশ্রম একটি বিরল কীর্তিমূলক ব্যাপার। তাঁর শারীরিক অসুবিধার প্রতি যথেষ্ট ধ্যান দেখা হয়নি, কিন্তু তিনি সামঞ্জস্য বিনা সহায়তা তাঁর গতর খাইটা সংসার চালাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজিব কিশোর বণিক বলেন, সুভাষের পরিশ্রম একটি আদর্শ সমাজসেবা কর্মকর্তার মতো হয়ে উঠেছে। তাঁর শারীরিক সমস্যার কারণে কাজ করার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়েছে, কিন্তু তিনি সংসার চালানোর জন্য তাঁর সব সময় নিয়োজিত।
সুভাষ চন্দ্র বলেন, ‘৩০ বছর ধরে গতর খাটি। ঝালমুড়ি বেচনের টেয়ায় জোড়াতালি দিয়া সংসার চালাই। অনেকে আমারে নিয়া হাসিঠাট্টাও করে। তয় বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি, রুজির টেয়ায় ঠিকমতো খাইতে পারি না। গতর �
