এল আজুল সোলো
এল আজ ল স ল – ইসিদোরা মোরালেস পৃথিবীতে সবচেয়ে অনুপম প্রেম করেছিল। তার প্রেম ছিল কোনো উপমা বা রূপক ছাড়া। সে সত্যিকার অর্থে নিজেকে একটি নক্ষত্রের কাছে সমর্পণ করেছিল। ইসিদোরার হৃদয়ে যে উষ্ণতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছিল, সেগুলো অন্ধকার আকাশে জ্বলতে থাকা এক নক্ষত্রের দিকে প্রবাহিত হয়েছিল। সেই নক্ষত্রের আলো ঈষৎ নীল ছিল। যেন নীলাভ আগুন বুকে জ্বলছিল।
ইসিদোরার বাবা মরিসিও
ইসিদোরা তার বাবা শৌখিন জ্যোতির্বিদ মরিসিও মোরালেস থেকে শিখেছিল আকাশের মহাজাগতিক বিশ্বাস। বাবার আবিষ্কৃত তিনটি নক্ষত্রের জন্য তার নামও স্মরণ করা হয়। তিনি কারিনা নক্ষত্রপুঞ্জে একটি অবাক করা নক্ষত্র কেনোপাস দেখিয়ে মেয়েকে বলেছিলেন কীভাবে প্রাচীন নাবিকেরা সমুদ্রপথ চিনত। আরেকবার এরিদানুস নক্ষত্রপুঞ্জে সাদা নক্ষত্র আচেরনার কথা বলেছিলেন সে।
“কী দেখছিস?” বলে মরিসিও ইসিদোরার কাছে টেলিস্কোপ দেখিয়েছিলেন। তার পর পৃথিবীতে সবচেয়ে পরিণামহীন প্রেমের প্রতিটি বিবরণ সে নিজের দিনলিপির পাতায় রেখেছিল।
ইসিদোরা লিখেছিল যে নিঃসঙ্গতার মূল্য অনেক বেশি। সে বুঝেছিল কোনো শব্দ নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয় না। কেনোপাসের জন্য নাবিকদের পুরোনো সময়ে উপলব্ধি রয়েছে। যে নক্ষত্রের প্রেমে ইসিদোরা পড়েছিল, সেটি ছিল কোনো নিযুত ক্রোশজুড়ে আবেগহীন শূন্যতার মধ্যে। এর সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী কেনোপাস নীহারিকা সাড়ে চার হাজার আলোকবর্ষ দূরে ছিল। ইসিদোরা লিখেছিল এই নিঃসঙ্গতার চারপাশে নিঃসীম অন্ধকার ছড়িয়ে আছে।
তার বাবার কাছ থেকে ইসিদোরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল শিথিল স্মিথ-ক্যাসেগ্রেইন টেলিস্কোপ। যেটি উত্তর আমেরিকার এক সমিতি থেকে পাঠানো উপহার ছিল। নক্ষত্রটি প্রথম দেখা হয়েছিল মরিসিও করেন। তবে এর শনাক্ত করেছিল আইসল্যান্ডের শৌখিন জ্যোতির্বিদ স্টেফান সিগারসন। ইসিদোরা প্রতিদিন এই নক্ষত্রের বিষয়ে কিছু কিছু লেখে। তার দিনলিপির এক স্থানে লেখা আছে বুভেত দ্বীপের কথা। আটলান্টিক মহাসাগরের পৃথিবীর নিঃসঙ্গতম এই দ্বীপ দুই হাজার কিলোমিটার দূরে ছিল।
মরিসিওর পানশালার দরজার কাছে ছিল শহরের শেষ মনুষ্যবসতি। সেখানে ক্যালিপসো বাজত। পুরো তল্লাটের ওপর ছড়িয়ে থাকে নক্ষত্র থিকথিক করা একটি আকাশ। তার ছেলেটি তোমাস রিকেলমে পানশালার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে টানা তাকিয়ে থাকে ছাদের দিকে। তার চোখে মুগ্ধতার আলো জ্বলছিল। ইসিদোরার জন্য।
যে নক্ষত্রের প্রতি এক হিস্পানি নারীর মুগ্ধতার চেহারা কল্পনা করা শক্ত। তার বিশ্বাস ছিল আকাশের প্রতিটি নক্ষত্র আলাদা। কারিনার বাইরের দি�
