দনিয়ার ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্র বিক্ষোভ ও ভাঙচুর
এক ছ ত র র আত মহত – রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনার পর স্কুলে ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া ছিল। বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাসুদ হাসানের বিরুদ্ধে সাবিকুন নাহার নামের ওই ছাত্রীর নাম উল্লেখ করে মিছিল করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রভাতি শাখার কিছু ছাত্র পরীক্ষার পর স্কুলের প্রবেশপথে সমাগম করে। তারা অন্যান্য ছাত্রদের ডেকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ হাসানের বিচার দাবি জানায়। এতে অভিভাবকেরাও সহায়তা করে। পরে বহিরাগত মানুষ সমাবেশে হামলা চালায় এবং শিক্ষার্থীরা দুঃখে সাবিকুন নাহারের বাসা হওয়া ভবনটি ভাঙচুর করে।
“প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাবিকুন নাহারের বিরুদ্ধে পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগ আনেন, কিন্তু সে পরীক্ষায় নকল করেনি, কাউকে দেখেও লিখছিল না।”
এক ছাত্রী সাংবাদিকদের জানায়, বুধবার তাদের বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ে মডেল টেস্ট হয়। সাবিকুন নাহার অর্থনীতি বিষয়ে প্রস্তুতি হয়তো ভালো ছিল না, সে পরীক্ষায় চুপ করে বসে ছিল। সে খাতায় কিছু আঁকা শুরু করে। তার সেই কাজ দেখে এক শিক্ষক তার খাতাটি চেয়ারম্যান মাসুদ হাসানের কাছে পাঠায়। তিনি সাবিকুন নাহারকে দীর্ঘ সময় বকাঝকা করে এবং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কিছু সময় পর তার অভিভাবককে ডেকে গালাগাল করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক ছাত্র বলেন, “তাঁর কথামতো না চললে চেয়ারম্যান অকারণে ছাত্রদের বকাঝকা ও গালিগালাজ করেন। টিসি দেওয়ার ভয় দেখান। আমরা তাঁর অত্যাচার এবং মানবিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছি।”
বিক্ষোভ অবসান হওয়ার পর পুলিশ চেয়ারম্যান মাসুদ হাসানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেই সময় শিক্ষকেরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাদের সাথে ছাত্রদের হামলা চালায় এবং স্কুলটির সিসি ক্যামেরা, কাচ ও ক্যাবিনেট ভাঙচুর করে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এ ঘটনা চলে।
বিক্ষোভের সময় স্কুলে দুটি ভবন ছিল। ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া সাময়িকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে মাসুদ হাসানকে আহত করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার বিষয়ে কোনো মামলা ও আটকের ব্যবস্থা হয়নি।
ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মঈদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রীটির আত্মহত্যা করায় শিক্ষার্থীদের আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি।”
