এআইর পর এজিআই আসছে, ডিজাইনারদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
এআইয় র পর আসছ এজ আই ড – লেখক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের (গ্রাফিক ডিজাইন) সহযোগী অধ্যাপক আল মঞ্জুর এলাহী বলেছেন, এখন প্রতিদিন যে ব্যবহার হচ্ছে তা কেবল এআই মহাসমুদ্রের ক্ষুদ্র অংশ। এআই যেমন চ্যাটজিপিটি, মিডজার্নি বা ডাল-ই দিয়ে কাজ করে, তেমনি বিশ্বের মানুষ প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারছেন।
সহজ করে বলা যায়, এজিআই (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স) হল সার্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এটি নিজে নিজে শিখতে পারে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেতে পারে এবং সমাধান করতে পারে মানুষের চাওয়া কী বানাতে হবে। বর্তমানে গুগল, ওপেনএআই, মেটা ও অ্যানথ্রপিকের মতো বৃহত্তম টেক জায়ান্টরা এজিআই তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রম্পট লেখার মাধ্যমে একটা সুন্দর বিড়ালের ছবি তৈরি করতে পারে এআই। কিন্তু এজিআই বহুগুণ শক্তিশালী। ব্র্যান্ডিং কাজের সময় ডিজাইনার এক সপ্তাহ আর কয়েক লিটার কফি ব্যয় করেন, এজিআই তা মিনিটে করে ফেলতে পারে। ডেটা যাচাই করে সরাসরি চ্যাট করে মতামত নেওয়া সম্ভব হয়।
মিথ্যা সান্ত্বনা দেব না। এআই এসে আমাদের চাকরিটা পুরোপুরি কেড়ে নিচ্ছে না, বরং ডিজাইন পেশার পুরো চরিত্রটাই বদলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশে ডিজাইনার ও এজেন্সি গুলো এআই ব্যবহার করছে, কিন্তু তা খুবই প্রাথমিক স্তরে। শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে এখনো এআই প্রযুক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সে কারণে নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক কাজ করার খাটনি দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা লাগছে বিশেষজ্ঞদের কাছে নয়, নিচের স্তরে বেশি। এআই যাচ্ছে যাঁরা শুধু রেডিমেড টেমপ্লেট কাস্টমাইজ করতেন বা মোটামুটি মানের সাধারণ লোগো-ব্যানার তৈরি করতেন তাঁদের বাজার শেষ।
পরিসংখ্যান দেখলে মাথা ঘুরে যায়। প্রতিদিন গড়ে ৩ কোটি ৪০ লাখের বেশি ছবি তৈরি হচ্ছে। অ্যালগরিদম দিয়ে দুনিয়ায় প্রায় ১.৫ হাজার কোটি ছবি তৈরি হয়েছে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। কিন্তু আসল খেলা এখনো শুরু হয়নি। খেলা জমবে তখন যখন বাজারে আসবে এজিআই।
