ইসরায়েল গোপনে আজারবাইজানে সেনা ও গোয়েন্দা দল মোতায়েন করেছিল
ইর ন য দ ধ র সময় – ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় আজারবাইজানে গোপনে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ দল প্রস্তুত করেছিল। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইসরায়েলের এমন সামরিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের অংশ ছিল এই বিষয়ে চারটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে। আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি স্থানে এই দলগুলো কাজ করত, যা ইরানের উত্তর সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। তাবরিজ শহর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত একটি অবস্থান ছিল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল হামলা চালায়।
অন্য দুটি সূত্র জানায়, আজারবাইজানে এই অভিযানে কয়েক ডজন সেনা অংশ নিয়েছিল। এগুলোতে ছিল ইসরায়েলের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য, হেলিকপ্টার থেকে আক্রমণ ও উদ্ধারে অভিজ্ঞ এলিট বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তারাও ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে বলে যে ভিত্তিহীন দাবি করা হচ্ছে, আমরা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”
সিএনএন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইসরায়েলের আরও কয়েকটি গোপন সামরিক স্থাপনার খবর প্রকাশ করেছে। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের স্থাপনা ছিল বলে জানানো হয়। ইরাকে দুটি গোপন স্থাপনা ছিল, যেখানে ইসরায়েল সামরিক রসদ সরবরাহের সুবিধা পেত। মার্চের শুরু পর্যন্ত ইরাকে কোনো অননুমোদিত ঘাঁটি বা বাহিনী ছিল না বলে সিএনএন আগে জানিয়েছিল।
সিএনএন তাবরিজ শহরে গোপন স্থাপনার পাশাপাশি সোমালিল্যান্ডের বন্দরনগরী বারবেরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বড় সামরিক উপস্থিতি ছিল। এর ফলে ইরানে দূরপাল্লার বিমান হামলার সময় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো সেখানে থামার সুযোগ পেয়েছিল। ডিসেম্বরে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
“ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় আজারবাইজানে সামরিক উপস্থিতির কারণে ইসরায়েল আরও একটি ঘাঁটি পেয়ে যায়। ফলে ইরানের হামলায় কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে পাইলটদের উদ্ধারে আকাশপথে অভিযান চালানোর সুযোগ ছিল।”
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইসরায়েল যে গোপন স্থাপনার নেটওয়ার্ক রয়েছে তা থেকে আজারবাইজানের স্থানগুলো অংশ ছিল। এগুলো ইরানের প্রতিবেশীদের পরিচালনার জন্য একটি দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এমন অনেক জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছিল, যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি।
