হাজীগঞ্জ ইউএনও কার্যালয়ে নতুন বার্তা: অনুমতির অপেক্ষা নয়, সরাসরি প্রবেশ
Banglaprabah.com – ইউএনও ক র য লয় র দরজ – সরকারি দপ্তরে গিয়ে অনেক মানুষই প্রথমে দ্বিধায় পড়েন—ভেতরে যাওয়া যাবে কি না, কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, কিংবা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার আগে অনুমতি নিতে হবে কি না। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সেই সংকোচ ভাঙতে দরজায় টানানো হয়েছে ব্যতিক্রমী একটি নির্দেশনা। সেখানে লেখা আছে, ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, ধাক্কা দিন’।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই ব্যবস্থা চালু করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য, সেবা নিতে আসা মানুষ যেন প্রশাসনের দরজায় এসে অস্বস্তি বা ভয়ের কারণে ফিরে না যান। কার্যালয়ে এসে প্রয়োজনের কথা জানাতে এখন দর্শনার্থীদের আলাদা করে অনুমতির অপেক্ষায় বসে থাকতে হচ্ছে না।
খোলা দরজায় সেবাগ্রহীতাদের স্বস্তি
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেবার প্রয়োজন নিয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে আসছেন। কেউ সমস্যার সমাধান চান, কেউ কোনো সরকারি সেবা সম্পর্কে কথা বলতে চান। তাঁরা সরাসরি কক্ষে ঢুকে ইউএনওর সঙ্গে নিজেদের কথা বলছেন। কর্মকর্তা মনোযোগ দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শুনছেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা বা সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এ সময় খায়রুন্নেছা নামের সত্তরোর্ধ্ব এক নারীকে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি নিজের প্রয়োজনের কথা বলার সময় মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন মন দিয়ে তাঁর কথা শোনেন। কথা শেষে স্নেহভরে ইউএনওর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন ওই নারী। এমন দৃশ্য সরকারি কার্যালয়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের একটি মানবিক দিকও তুলে ধরে।
প্রশাসনিক সেবা মানুষের দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু দপ্তরে প্রবেশের প্রক্রিয়া জটিল মনে হলে অনেকেই নিজেদের সমস্যার কথা সহজে জানাতে পারেন না। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা নাগরিক বা সরকারি অফিসে কম যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এ ধরনের অস্বস্তি বেশি দেখা দিতে পারে। হাজীগঞ্জের এই উদ্যোগ সেই মানসিক বাধা কমানোর একটি চেষ্টা হিসেবে সামনে এসেছে।
আগের আনুষ্ঠানিকতার বদলে সরাসরি কথা বলার সুযোগ
হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া সুলতানা বলেন, আগে বিভিন্ন কাজে ইউএনওর কাছে যেতে হলে অনুমতি নিয়ে কক্ষে ঢুকতে হতো। এখন সেই অতিরিক্ত ধাপটি নেই; প্রয়োজন হলে সরাসরি গিয়ে কথা বলা যাচ্ছে।
“বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা শিক্ষকেরাও এসে অন্য সময় অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতাম। কিন্তু এখন আর সেই বিড়ম্বনা নেই। এখন সরাসরি ঢুকেই কথা বলে চলে আসি।”
শুধু শিক্ষক বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাই নন, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পরিবর্তনটি লক্ষ করছেন। হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম রহমানের ভাষ্য, আগে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে বাইরে অপেক্ষা করতে হতো। আনসার সদস্য বা অফিসের পিয়নের মাধ্যমে অনুমতি নেওয়ার পর কক্ষে ঢোকার সুযোগ মিলত। নতুন নিয়মে সেই অপেক্ষার অভিজ্ঞতা বদলেছে।
“আগে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে আনসার বা অফিসের পিয়নরা বাইরে বসিয়ে রেখে অনুমতি নিতে যেতেন। এখন কোনো অনুমতি ছাড়াই যেতে পারছি।”
এ ধরনের ব্যবস্থা সেবাগ্রহীতাদের সময় বাঁচানোর পাশাপাশি কর্মকর্তার কাছে নিজের বক্তব্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। তবে এর মূল তাৎপর্য কেবল দরজা খোলা রাখা নয়; সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি দপ্তরকে আরও সহজলভ্য করে তোলার বার্তাও এতে রয়েছে।
সংকোচ কাটিয়ে জনবান্ধব প্রশাসনের চর্চা
মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এলে প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ইতস্তত করেন। সরকারি সেবার পথ খোলা থাকলেও অনেকে আনুষ্ঠানিকতা, পরিবেশ বা অজানা নিয়মের কারণে নিজেদের কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এ কারণেই দরজায় স্পষ্ট ভাষায় প্রবেশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
“সরকারি অফিসে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ সেবা নিতে এসে অনেক সময় ইতস্তত বোধ করে। এমনিতেই সেবার দরজা সব সময়ই উন্মুক্ত থাকে। তারপরও কেউ যেন দ্বিধা বা সংকোচবোধ না করে, সে জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সরকারি সেবার ক্ষেত্রে নাগরিকের অভিজ্ঞতা অনেক সময় ছোট ছোট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। কারও সঙ্গে কথা বলা যাবে কি না, কক্ষে ঢোকার অনুমতি আছে কি না কিংবা কোথায় গিয়ে সমস্যার কথা বলতে হবে—এসব প্রশ্নের সহজ উত্তর পাওয়া গেলে সেবার প্রক্রিয়াও মানুষের কাছে সহজ মনে হয়। হাজীগঞ্জ ইউএনও কার্যালয়ের দরজার বার্তাটি সেই সহজতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সেবাগ্রহীতাদের প্রত্যাশা, অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও এমন পরিবেশ তৈরি হবে, যেখানে মানুষ কোনো ভয়, লজ্জা বা অপ্রয়োজনীয় সংকোচ ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা চাইতে পারবেন। নাগরিকদের কথা শোনার সুযোগ বাড়লে প্রশাসন ও মানুষের দূরত্বও কমে আসতে পারে।
হাজীগঞ্জে চালু হওয়া এই উদ্যোগে সরকারি কার্যালয়ের প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও একটি সরল বার্তা দেওয়া হয়েছে—সেবা নিতে আসা মানুষ অতিথি নন, তাঁরা অধিকার নিয়েই দপ্তরে প্রবেশ করবেন এবং নিজেদের প্রয়োজনের কথা বলবেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইউএনও ক র য লয় র দরজ?
ইউএনও ক র য লয় র দরজ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইউএনও ক র য লয় র দরজ matter?
ইউএনও ক র য লয় র দরজ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

