আড়াই শ টাকা সাশ্রয় করতে মালেকা বানুর ৪ ঘণ্টার লড়াই
আড় ই শ ট ক স শ – মালেকা বানু তাঁর বাঁ চোখে ছানি পড়েছে। ছয় দশকের মহিলার দৃষ্টি ক্ষীণ। অস্বাস্থ্যকর গরমে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক সেলে দাঁড়ান তিনি। দুপুর ১২টার দিকে তাঁর সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদনকারীর। ট্রাকের পণ্য কিনতে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন তিনি। মাথার ওপর কাঠফাটা রোদে দাঁড়ানো খুব কষ্টকর।
টিসিবির ট্রাক থেকে খুচরা বাজারের তুলনায় কম মূল্যে ভোগ্যপণ্য কেনা যায়। একজন ভোক্তার জন্য সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, এক কেজি চিনি ও দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারেন। যথাক্রমে এক লিটার তেল ১৩০ টাকা, এক কেজি চিনি ৮০ টাকা এবং এক কেজি ডাল ৭০ টাকা। এ তিনটি পণ্য একসঙ্গে কিনলে কোনো ব্যক্তির খরচ হয় ৪৮০ টাকা। যাতে খুচরা বাজার থেকে সেই পণ্যগুলো কিনতে ৭০০ থেকে ৭৩০ টাকা লাগে, ফলে সাশ্রয় হয় ২২০ থেকে ২৫০ টাকা।
“আমারে তো ধাক্কায়া–তাক্কায়া ফালাইয়া দিছিল, মইরাই গেছিলাম গা। যাগো লগে আইছি, ওরা তো পারে। আমি তো হাঁটতেও পারি না ঠিক কইরা।”
টিসিবির ট্রাকের সামনে নারী–পুরুষদের আলাদা লাইন রয়েছে। নারীদের লাইনে ভিড় বেশি। গুনে দেখা গেল, নারীদের কাছে ৫৬ জন এবং পুরুষদের কাছে ২৫ জন দাঁড়িয়েছে। ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আরও কিছু মানুষ অপেক্ষা করছে। চড়া রোদে কয়েকজন প্লাস্টিকের ব্যাগ মাথায় রেখেছিলেন। কেউ মাথায় গামছা পেঁচিয়ে রেখেছেন।
ট্রাকের পণ্য মাপার যন্ত্র অকেজো হয়ে যাওয়ার পর মানুষেরা লাইন থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর আবার বিক্রি শুরু হলে সবাই হুড়োহুড়ি করে লাইনে আসে। এক ফাঁকে ঢুকে পড়েন মালেকা বানু। টোকেন জমা দিয়ে পণ্য হাতে পেলে ঘড়িতে পৌনে দুইটা হয়।
মালেকা বানু বলেন, “খাই তো এতদুটো ডাল আর আলুভর্তা। এক মাসের বেশিই যাইব।” ডান হাতে তেলের বোতল এবং বাঁ হাতে বুকের সঙ্গে ডাল–চিনির ব্যাগ চেপে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করেন মহিলাটি। বেশ কিছু মানুষ তাঁর সঙ্গে সংঘটিত ঘটনার প্রতি ধ্যান করেন।
