‘আমার বোনটারে এনে দেন, আমার বুকে ফিরায় দেন’
আম র ব নট র এন দ – চট্টগ্রাম নগরের মেয়র গলির মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সামিয়া ইসলামের বাসা একটি টিনের ছাউনি ঘরের উপরে ধসে পড়েছিল। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা কাদা, গাছপালা আর মাটি ঘরটিকে চাপা দিয়েছে। দেবে গেছে চালা, দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। কয়েক ঘণ্টা আগে সেখানে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ছিল, এখন শুধু মানুষের ভিড় আর আহাজারি রয়েছে।
সামিয়া ইসলামের মা শিরিন বেগম গৃহকর্মী, বাবা মোহাম্মদ ফারুক মাছের বিক্রেতা। তাদের তিন বোন ছিল, সামিয়া ছিল সবার ছোট। বৃষ্টি অব্যাহত ছিল সকাল থেকে। বেলা বাড়তে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। তখন ঘরে একাই ছিল সামিয়া। হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে টিনের ঘরের ওপর। মুহূর্তেই মাটি, গাছপালা আর ভাঙা দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে যায় সে।
‘আমার বোনটারে এনে দেন। আমার ছোট বোনটা সকালেই আমার সঙ্গে বসে ভাত খাইল। আমার বোনটারে আমার বুকে ফিরায় দেন।’
প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে। কেউ খালি হাতে কাদা সরিয়েছেন, কেউ ভাঙা দেয়ালের ইট সরানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার কাছে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর তাকে বের করা হয়, কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।
সড়কের পাশে বসে তখনো কাঁদছিলেন সামিয়ার খালা শ্যামলী বেগম। আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে তিনি বললেন, ‘মেয়েটা সবার আদরের ছিল। স্কুলে পড়ত। ওকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল! একটু একটু করে টাকা জমাচ্ছিলাম। ভাবছিলাম, বড় হলে কাজে লাগবে। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।’
চট্টগ্রামে কয়েক দিন ধরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতিবেশী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘বৃষ্টি এত বেশি ছিল যে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। তারপরও আমরা কয়েকজন মিলে মাটি সরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু দেয়াল আর কাদার নিচ থেকে ওকে বের করতে পারিনি।’
আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আগামী অন্তত দুই দিন একই ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। নগরের পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে বসবাসকারীদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রতিবেশী রিয়া আক্তার বলেন, ‘আমি কতবার বলছি, এই বাসা ছেড়ে দিতে। পাহাড়ের পাশে থাকিস না। কেউ আমার কথা শুনল না। এখন �
