মুক্তিযুদ্ধে আহত হন মন্নাস আলী, ৫৫ বছর পর পেট থেকে গুলি অপসারণ
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চোখে আঘাত করেছিল তাঁর দেহে
ম ক ত য দ ধ আহত – ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিস্ফোরণের পর একটি বছর যাবৎ মন্নাস আলী দুর্গাপুরের হরিয়াউন্দ গ্রামে বাস করেন। পাকিস্তানি বাহিনী সেই সময় স্থানীয় ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। আহত হওয়ার ঘটনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য স্থানীয় গ্রন্থ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাপ্ত। পরে দীর্ঘ সময় তিনি অসুস্থ থাকতেন কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে পারছিলেন না।
অপারেশনের প্রসঙ্গে তিনি চিকিৎসার মূল্যের ভয়ে চোখ রেখেছিলেন। গত শুক্রবার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁকে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে নিশ্চিত করা হয় যে গুলি তাঁর পেটে বহন করা হয়েছিল। এ অপারেশন বিনা মূল্যে পরিচালিত হয়।
“আমার আব্বা গুলির কারণে বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা করাইতে পারছি না। এ ছাড়া আব্বাও অপারেশন কইরা গুলি বাইর করা নিয়া খুব ভয় পাইতেন। সবার সহযোগিতায় তাঁর শরীর থাইক্কা গুলিটি বের করা হইছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।”
মন্নাস আলীর পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, “আমার শ্বশুর সব সময়ই কইতেন তাঁর শরীরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের ছোড়া গুলি রইছে। মৃত্যুর পর যেন গুলি বের না করেই তাঁকে দাফন করা হয়। আজ আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুইল্লা তাকাইছেন। অপারেশনের পরে আমরা নিজের চোখে গুলিটি দেখলাম।”
পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার নজির মন্নাস আলী নিজের দেহে বয়ে বেড়া�্ছিলেন। তাঁর পেটে বাঁ পাশে গুলিবিদ্ধ স্থানে ইনফেকশন হয়ে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় প্রচুর পুঁজ বের হয়। চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, গুলিটি দুই সেন্টিমিটারের মতো হতে পারে। এখনো তা হাসপাতালে রাখা আছে। মো. সোহেল রানা নামের একজন চিকিৎসক অস্ত্রোপচারে অংশ নেন।
দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তানজিরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার মোশারফ নামের এক ব্যক্তি মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও এক্স-রে করার পর তাঁর পেটে গুলি �
