ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স-হইচই করের আওতায় আসছে কি
নতুন কর নীতি কীভাবে কাজে লাগবে
ওট ট প ল য টফর ম – বাংলাদেশে ব্যবসা চালানো হলেও কোনো অফিস বা স্থায়ী উপস্থিতি নেই এমন বিদেশি ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্মগুলোকে কর আইনের আওতায় আনার জন্য সরকার নতুন একটি মানদণ্ড প্রবর্তন করেছে। অর্থবিল ২০২৬-এ এসব প্ল্যাটফর্মের ডিজিটাল উপস্থিতি নির্ধারণে বিশেষ আদেশ রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে এক লাখ বা তার বেশি ডিজিটাল গ্রাহক থাকলে তাদের স্থায়ী স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই নিয়মের ফলে সেবাগুলো দেশের কর কর্তৃপক্ষের নজরে পড়বে।
“স্থায়ী স্থাপনা না হলে করারোপের অধিকার স্থাপিত হয় না। তাই আমরা এসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে স্থায়ী স্থাপনা হিসেবে অভিহিত করেছি। এটা করারোপের প্রাথমিক ধাপ।”
অর্থনীতির প্রভাব এবং বিশ্লেষণ
বর্তমানে বাংলাদেশে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, ডিজনি প্লাস হটস্টার এবং হইচই প্ল্যাটফর্মগুলো জনপ্রিয়। এসব সেবার গ্রাহকসংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় কর কাঠামোতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগ আয় কর আওতার বাইরে থাকছে। সরকার এই ঘাটতি দূর করতে চায় এই নতুন নিয়মের মাধ্যমে। যদি এসব প্ল্যাটফর্ম স্থায়ী স্থাপনা হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাদের করপোরেট করের সাড়ে ২৭ শতাংশ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে নতুন নিয়ম কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন দেশের কর চুক্তি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৩টি দেশের সঙ্গে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি উপস্থিতি ছাড়া তাদের কর আওতায় আনা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
স্নেহাশীষ বড়ুয়া, কর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমএসআই অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক বলেন, “আমাদের আয়কর আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি সরাসরি উপস্থিতি অপেক্ষা বেশি প্রাধান্য পায়। তাই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করলেও কর আহরণ সম্ভবপর না হতে পারে যদি চুক্তি পরিবর্তন না করা হয়।”
