কোরআন তেলাওয়াতের অপরিহার্য গুরুত্ব কেন এত বেশি?
ক রআন ব শ দ ধ ত – কোরআন আল্লাহর কালামের প্রমাণ। ইসলামের প্রধান মোজেজা এবং মানুষের সামগ্রিক জীবনবিধানের প্রধান গ্রন্থ। শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রহ.) তাঁর তাফসির গ্রন্থে বলেছেন, ‘কোরআন প্রতিটি যুগের প্রয়োজনীয় গ্রন্থ।’ (আল-ফাওজুল কাবির ফি উসুলিত তাফসির, পৃ. ৪২, মাকতাবাতুল বুশরা, করাচি, ২০০৮) আল্লাহ–তাআলা নিজে এই কিতাব নাজিল করেছেন এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সুরা হিজরে আয়াত: ৯-এ বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি এবং আমিই এর রক্ষক।’ এ বিষয়ে কোরআন একটি অক্ষর বা হরকতের পরিবর্তন ঘটেনি যে কোনো সময় থেকে আজ পর্যন্ত। কেয়ামত পর্যন্ত এটি অক্ষুণ্মূলে সংরক্ষিত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
তেলাওয়াত কি মানুষের চিন্তার বাইরে মর্যাদা অর্জন করে?
হজরত ইকরামা (রা.) কোরআন তেলাওয়াত করার সময় এমন ভাবে আত্মহারা হয়ে পড়তেন যে তাঁর মুখ থেকে বের হতো বলেছেন, ‘হাযা কালামু রব্বি’ (আমার প্রতিপালকের বাণী)। (ইবনে আবি শাইবা, আল-মুসান্নাফ, ৭/১৮০, মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ, ২০০৪) আল্লাহ–তাআলা সরাসরি তাঁর বাণী পূর্ণ রক্ষা করেছেন। যেহেতু এটি মানুষের চিন্তাশক্তির বাইরে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মহিমান্বিত গ্রন্থ, তাই এর মর্যাদা অনুসারে সমস্ত যুগে এর সঠিক শিক্ষা ও প্রচার নিয়ন্ত্রিত করা আবশ্যক। রাসুল (সা.) এ বিষয়ে হাদিসে বলেছেন, ‘তোমরা আরবের সুর ও ভঙ্গিতে কোরআন তিলাওয়াত করো।’ (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, ৪/৫১১, মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ, ২০০৩)
তেলাওয়াতের প্রথম আদব হলো সুন্দর ও সুললিত কণ্ঠে পাঠকরা। আরবি উচ্চারণের সঠিক মান বজায় রেখে অত্যন্ত আগ্রহ ও মনোযোগের সঙ্গে পড়া যাতে সুরের গাম্ভীর্য নষ্ট না হয়। হজরত উম্মে সালমাকে (রা.) জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রাসুল (সা.) কীভাবে তেলাওয়াত করতেন? তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি প্রতিটি হরকত স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতেন এবং প্রতিটি হরফ আলাদাভাবে বোঝা যেত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯২৭) আল্লাহ–তাআলা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য এমন মনোযোগ দিয়ে শোনেন যে সুন্দর আওয়াজে পাঠকরা আরও বেশি সুশোভিত করে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৬৮)
প্রাথমিক দাবি ও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
কোরআন শিক্ষা ও প্রচারের দাবি রাখে। সুরা মুজ্জাম্মিল আয়াত: ৪-এ বলা হয়েছে, ‘আর কোরআনকে তারতিল বা থেমে থেমে, স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে পড়ো।’ কোরআন পাঠ শুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা আল্লাহ–তাআলার নির্দেশ অনুসারে ইলমে তাজবিদ ও কেরাত দ্বারা বুঝা যায়। এই পদ্ধতিতে পড়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। আল্লামা ইবনে জাজারি (রহ.) বলেন, ‘তাজবিদসহ কোরআন পড়া অত্যন্ত আবশ্যক; যে তাজবিদ মেনে পড়
