কেঁদে লাভ হয়নি, অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে বাধ্য হন এই নায়িকা
ক দ ল ভ হয়ন অন তরঙ – মোহিনী সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আবারও আলোচনায় এসেছেন, যেখানে তিনি আগের দিনগুলির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৪ সালের তামিল ছবি ‘কানমানি’-তে তাঁকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে।
দৃশ্যটি করতে অস্বীকারও করেছিলাম
মোহিনী বলেন, ‘পরিচালক আর কে সেলভামানি ছবিটির জন্য একটি সুইমস্যুট দৃশ্য পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেই দৃশ্য নিয়ে শুরু থেকেই তিনি ভীষণ অস্বস্তিতে ছিলেন।’
‘আমি কেঁদেছিলাম, দৃশ্যটি করতে অস্বীকারও করেছিলাম। প্রায় অর্ধেক দিন শুটিং বন্ধ ছিল। আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে আমি সাঁতারই জানি না। তখন নারী প্রশিক্ষকও প্রায় ছিল না। পুরুষ প্রশিক্ষকদের সামনে অর্ধনগ্ন অবস্থায় সাঁতার শেখার বিষয়টি আমি কল্পনাও করতে পারছিলাম না।’
অভিনেত্রী জানান, শেষ পর্যন্ত তাঁকে মানসিক চাপ দিয়েই ‘উডাল থাঝুভা’ গানের সেই দৃশ্য করানো হয়। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছিল, আমাকে জোর করেই ওই দৃশ্য করানো হচ্ছে। পরে আমি আধা দিন কাজ করি এবং তারা যা চেয়েছিল, তা-ই করি।’
তবে এরপর যখন একই ধরনের দৃশ্য আবার উটির লোকেশনে ধারণ করার কথা বলা হয়, তখন তিনি আর রাজি হননি। অভিনেত্রী জানান, তিনি স্পষ্ট ভাষায় নির্মাতাদের বলেছিলেন, শুটিং বন্ধ হয়ে গেলে সেটি তাঁদের সমস্যা, তাঁর নয়। কারণ, আগের বারও তাঁর অনিচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল।
মোহিনী আরও বলেন, ‘আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত গ্ল্যামারাসভাবে অভিনয় করা একমাত্র সিনেমা ছিল “কানমনি”। জীবনে কখনো কখনো এমন কিছু ঘটে, যা আপনি চান না, কিন্তু তবু করতে হয়। এ দৃশ্যটিও তেমনই ছিল।’
তবে মোহিনীর অভিযোগ নিয়ে সিনেমাটির প্রযোজক বা সংশ্লিষ্ট কেউ এখনো মন্তব্য করেননি। অভিনেত্রীর আক্ষেপ, ছবিতে তাঁর চরিত্রটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু বিতর্কিত দৃশ্যগুলোর কারণে সেই অভিনয় প্রাপ্য স্বীকৃতি পায়নি।
অভিনেত্রী কাজ করেছেন শিবাজি গানেসান, চিরঞ্জীবি, মোহনলাল, মামুট্টি, নন্দামুরি বালকৃষ্ণ, বিক্রম, সুরেশ গোপিসহ অনেক তারকার সঙ্গে। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘আদিত্য ৩৬৯’, ‘হিটলার’, ‘উরু মরাভাথুর কানাভু’, ‘বেশাম’, ‘গাদিবিদি আলিয়া’ ইত্যাদি। সবশেষ তাঁকে দেখা যায় ২০১১ সালের মালয়ালম রাজনৈতিক থ্রিলার ‘কালেক্টর’-এ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে
