নানা গুণের কারিপাতা
ন ন গ ণ র ক র – ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে একটি রাস্তা চলে গেছে বুড়া পীরের মাজারের বিপরীত দিকে। সেই পথে গোবিন্দ গাঙ্গুলী রোড নামে পরিচিত একটি রাস্তায় এক দিন আঙিনায় কারিপাতাগাছের ঝলকানী বিস্ময় আসে। গাছটির পাতা দেখতে নিম গাছের মতো হওয়ায় এটিকে অনেক সময় ‘মিষ্টি নিম’ বলা হয়।
এর পাতার অনুপত্রকে সংখ্যা গড়ে আসে ৯-১৫ টি। কিনারা খাঁজকাটা এবং অগ্রভাগ সুচালো হওয়ায় পাতার বিন্যাস সুন্দর। পুষ্পমঞ্জরি ডালের মাথায় সাদা রঙের ফুল ফোটে। ফুলে সুগন্ধ রয়েছে এবং এগুলো ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসে প্রকাশিত হয়।
কারিপাতার বৈজ্ঞানিক নাম Bergera koenigii, এটি Rutaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারের সদস্য আমাদের পরিচিত কামিনী ও লেবুগাছ। ইংরেজিতে একে কারি ট্রি বা সুইট নিম বলা হয়।
কারিপাতার গাছ ৫-৬ মিটার উঁচু হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫০০ মিটার উঁচুতেও এটি জন্মাতে পারে। সালফারঘটিত একধরনের তেল থাকায় পাতায় সুন্দর ঝাঁজালো গন্ধ আছে। এই সুগন্ধির জন্য কারিপাতা রান্নায় মসলাপাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ফল ডিম্বাকার থেকে গোলাকার। কাঁচা ফলের রং সবুজ। পরিপক্কতা হওয়ার সাথে সাথে লালচে থেকে কালো বর্ণে পরিবর্তন হয়। বীজ থেকে সহজে চারা তৈরি করা যায়। কাঁচা পাতায় ঘ্রাণ ও গুণ সবচেয়ে বেশি।
খাবারে এটি অনন্য হওয়া যায় বড়া, রাসাম বা কাধিতে। কম্বোডিয়ায় আগুনে সেঁকে টক স্যুপে ব্যবহার করা হয়। ধর্মীয় আচারে এটি তুলসীপাতার প্রতিযোগী হিসেবে দেখা যায়।
আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে কারিপাতা শক্তিশালী ঔষধি উদ্ভিদ। পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে কারি পাউডার হিসেবে সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু কাঁচা পাতার উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। এর পাতা বিষাক্ত পোকা কামড়ালে প্রলেপ দিয়ে বিষ উপশম করে।
গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কারিপাতা সেবনে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাতার ক্বাথ খেলে বমিভাব কেটে যায়। মাংস, ডাল বা মিশ্র সবজিতে কয়েকটি কাঁচা পাতা ছিঁড়ে দিলে রান্নায় সুবাস আসে। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও আয়রন রয়েছে।
বুনো পরিবেশে অবহেলায় বেড়ে ওঠা কারিপাতার সঠিক ব্যবহার ও চাষাবাদ আমাদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের জন্য নতুন দিকে উন্মোচন করতে পারে।
চয়ন বিকাশ ভদ্র, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প
