ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রদর্শনী বন্ধের প্রসঙ্গে মামুনুল হকের মতামত
ব র হ মণব ড় য় য় – সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অবস্থান করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মতাদর্শ প্রকাশ করেছেন। তিনি রাত পৌনে ৯টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছেন যেখানে বলেছেন ‘প্রসঙ্গ বনলতা এক্সপ্রেস ও আলেম সমাজের ক্ষোভ!’ শিরোনামে সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠানের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে।
আলেম সমাজের দুটি ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষণ
মামুনুল হক লিখেছেন যে ধর্মীয় কার্যক্রম দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত হয়। প্রথম ভাগে শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে উৎসাহ দেয়া হয়। দ্বিতীয় ভাগে সৎ কাজের আদেশ এবং অন্যায় কাজ প্রতিরোধের জন্য সামর্থ্য ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন যে ইসলামের তালিম, তাজকিয়া ও দাওয়াহ এই কাজগুলোর প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হলো সামর্থ্যের প্রথম মুখ্য স্তর। তাই ইমানদারদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা হলে তাদের মৌলিক দায়িত্বে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাই সক্ষমতার বিষয়টি আপেক্ষিক হিসেবে বিবেচিত হয়। যখন শরিয়তবিরোধী কোনও কর্মকাণ্ড ঘটে তখন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বায়তুল্লাহ শরিফের অবমাননা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফখরে বাঙাল তাজুল ইসলামের সম্মানহানি এই সমস্যার মূল কারণ হতে পারে।
মামুনুল হক বলেন যে বর্তমান সময়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনার বিষয়টি আলোচনায় আসা দরকার। এখানে ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো কোনও ঘটনা ঘটলে তা খুবই গুরুতর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন যে আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ক্ষোভ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে যদি এই ক্ষোভের কারণ হয় তবে তা আমলে নিয়ে সুরাহা করা জরুরি। অন্যদিকে যদি এটি কেবল একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে গঠিত হয় তবে সেটি আরেক স্তরের বিষয়।
সুতরাং তিনি দাবি করেছেন যে বিষয়টি খোলাসা করা আবশ্যক। বিশেষ করে আলেম সমাজ ও ইসলামি জনতার প্রতিবাদী ভূমিকা সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য হতে হবে।
