বিআরটি প্রকল্প: ১৪ বছর প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে না কাজ করছে
১৪ বছর প র য় ত ন – বাংলাদেশের সড়কপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করা বিআরটি প্রকল্পের জন্য ১৪ বছর প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের ফলাফল আগের তুলনায় বেশি যানজট ও জনবহনের সমস্যার সৃষ্টি করেছে। দেশের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাদের প্রতিবেদনে প্রকল্পটি অবকাঠামো পরিকল্পনার ক্ষতিগ্রস্ত নকশা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
প্রকল্পের পরিচালনার সমস্যাগুলো
বিআরটি প্রকল্পের ২৫টি স্টেশনের মধ্যে কেবল ১৫টি নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ স্টেশন বর্তমানে কাজে লাগছে না। প্রতিরোধকে ভেঙে পড়ছে ও সিঁড়ি চালু করা হয়েছিল কিন্তু তা এখন অচল। যানজট কমানোর উদ্দেশ্যে সড়কের মাঝখানে দুটি লেন আলাদা করার নামে প্রকল্পের কোনো সুবিধা কার্যকর হয়নি। ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. সোহেল বলেন, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত যাতায়াত প্রায় দশ ঘণ্টা সময় লাগে।
বিআরটি প্রকল্পের বাতিল করার পক্ষে জোরালো মত আছে। অন্যদিকে আরও কিছু টাকা খরচ করে প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে এমন মতও আছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৈঠকে সব পক্ষ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুয়েট ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
বুয়েটের চারজন বিশেষজ্ঞ দলের পরিচালনা করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক। তিনি আগস্ট মাসে প্রতিবেদনটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। পরিকল্পনার ত্রুটি ও বাস্তবায়ন কারী সংস্থার দুর্বলতা প্রকল্পটির সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
১৪ বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সিস্টেমেটিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে গণ্য। সড়ক মাঝখানে প্রতিরোধক দিয়ে দুটি লেন আলাদা করা হয়েছিল কিন্তু কিছু স্থানে সাইন-সংকেত ছিল না। মাটিতে ও উড়ালপথে স্টেশন তৈরি করা হয়েছিল যেগুলো বিশেষ বাসের জন্য। কিন্তু সড়ক সরু হয়ে গেছে এবং চলার সময় রাস্তা ভুল হয়।
সিওজ ও পরামর্শকদের মত অনুসারে বিআরটি প্রকল্প চালানোর সময় নকশাগত দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। কিছু স্টেশনে সিঁড়ি চালু করা হয়েছিল কিন্তু এখন তা অচল। মালামাল পরিবহনের জন্য সড়ক মাঝখানে দুটি লেন আলাদা করা হয়েছিল কিন্তু কিছু স্থানে সাইন-সংকেত ছিল না।
